


শিশির ঘোষ: প্রায় দু’দশকের বেশি সময় ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছি। এখনও মাঝেমধ্যে খেলতে ভালো লাগে। তবে শরীর সায় দেয় না। এখনকার ফুটবল দেখলে আপশোসও হয়। ফুটবলারদের যা শোচনীয় পারফরম্যান্স! এই প্রজন্মের একজন হলে এখনও আগের মত গোল করতামই করতাম। রবিবার ডার্বি দেখে তো পা-মাথা উসখুশ করছিল। কী সব মিস করল দু’দলের ফরোয়ার্ডরা। এরা কি সত্যিই বড় ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপানোর যোগ্য? প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে এতক্ষণে আইএসএল ট্রফি ময়দানে বটগাছের তলায় এনে দাঁড় করাতে পারতেন লাল-হলুদ কর্তারা। দীর্ঘদিন পরে বড় ম্যাচে এরকম দাপুটে ফুটবল খেলতে দেখলাম ইস্ট বেঙ্গলকে। তবে ম্যাচ জিততে না পারলে সেই লড়াই বৃথা।
রবিবার ড্রয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নশিপের পাল্লা ঝুঁকে ইস্ট বেঙ্গলের দিকে। তবে লিগ জিতলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে না পারার আপশোস বয়ে বেড়াতে হবে অস্কার ব্রুজোঁকে। স্প্যানিশ কোচ খুবই বিচক্ষণ। তবে তিনি হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন, ফুটবলটা ৯০ মিনিটের লড়াই। না হলে দল ৮৫ মিনিটে গোল করার পর ওভাবে লম্ফঝম্ফ করতেন না। বরং লিড কীভাবে ধরে রাখা যায়, সেদিকে জোর দিতেন। মনে রাখতে হবে, তাঁর হাতে তখনও ফুটবলার পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি ডিফেন্ডার না নামানোয় আশ্চর্য হলাম। তাছাড়া রবিবার প্রথম একাদশে ইউসেফ এজেজ্জারির নাম না দেখে অবাক হয়েছিলাম। তাঁর জায়গায় সোয়বার্গকে কেন দলে রাখলেন, উত্তরটা অস্কারই ভালো দিতে পারবেন। ও তো ঠিকঠাক বলই রিসিভ করতে পারে না। বরং দ্বিতীয়ার্ধে এজেজ্জারি ও এডমুন্ড নামতে অনেক বেশি জমাট দেখায় ইস্ট বেঙ্গলকে। তাই শেষ ম্যাচ ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে কোনোরকম পরীক্ষা নিরীক্ষার পথে না হেঁটে সেরা দল নিয়েই মাঠে নামুক ইস্ট বেঙ্গল।
রবিবার ড্রয়ের ফলে আপশোস করতে পারে মোহন বাগানও। শেষ মুহূর্তে ম্যাকলারেন ওই বলটা গোল করতে পারলে আজ তারই জয়গান হত। তবে সত্যিই বলতে, সবুজ-মেরুনের এই ব্রিগেড দেখে আমি সত্যিই হতাশ। বিশেষত গত তিন ম্যাচে পারফরম্যান্সের বিচারে কোনওভাবেই লিগ জেতার যোগ্য নয় লোবেরা ব্রিগেড। এই দলে এমন কিছু ফুটবলার রয়েছে, যারা আমাদের সময় বড় ক্লাব তো দূর অস্ত, অপ্রধান দলগুলিতেও নিয়মিত প্রথম একাদশে সুযোগ পেত না। অথচ এদেরকে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সই করানো হচ্ছে। ম্যাচ শেষে এসি গাড়িতে চেপে বাড়ির পথ ধরছে। এদের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার লোকের খুব অভাব। অতীতে এমন খেলার পর ফুটবলাররা পাড়ায় মুখ দেখাতে পারত না।