নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জঙ্গলে ফরেস্ট গার্ডের ঘাটতি আছে। সম্প্রতি সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১১০ বরাদ্দ পদের মধ্যে ফাঁকা ৭৯টি। ৩১ জনকে নিয়ে চলছে কাজ। গত বছরগুলিও কম সংখ্যক ফরেস্ট গার্ড নিয়ে কাজ চালাতে হয়েছে টাইগার রিজার্ভের কর্তাদের। দীর্ঘদিন রাজ্য কোনো নিয়োগ করেনি, এটা তারই প্রমাণ বলে দাবি আধিকারিকদের। নতুন সরকার আসার পর কর্তারা আসা করছেন, এই বিভাগে নিয়োগ দ্রুত করা হবে। জঙ্গলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজের হার কমেছে ২০২৫-’২৬ সালে। বিনা অনুমতিতে মাছ ধরা, বেআইনিভাবে গাছ কাটা ইত্যাদি অপরাধ (যাকে কম্পাউন্ডিং অফেন্স বলা হয়) হয়েছে ২ হাজার ৫৩০ টি। গ্রেপ্তার ১৯ জন। সবমিলিয়ে ৩৩ লক্ষেরও বেশি ফাইন আদায় করেছে এসটিআর। জঙ্গলে টহল, অপরাধ ঠেকাতে অভিযান সহ নানা কাজের দায়িত্ব থাকে বনরক্ষীদের উপর। সম্প্রতি সজনেখালি রেঞ্জের এক ফরেস্ট গার্ড একাধিক পোচিংয়ের ঘটনা রুখে দিয়ে দিল্লিতে পুরস্কৃত হয়েছেন। যেহেতু টাইগার রিজার্ভের এলাকা অনেক বড়ো, তাই ৩১ বনরক্ষী যে যথেষ্ট নয়, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কিন্তু লোকবল সংকটের মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আধিকারিকরা। তাই দ্রুত যাতে এই পদে আরও কিছু রক্ষী নিয়োগ করা হয়, সেই আবেদন রাখছেন রেঞ্জার থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দিনে রাতে জঙ্গল পাহারার জন্য টহল অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে বর্তমান যে সংখ্যক ফরেস্ট গার্ড রয়েছেন তাঁদের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও আরও বিভিন্ন পদ খালি রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই কঙ্কালসার লোকবল নিয়েই অপরাধ ঠেকাতে অনেকটা সক্ষম রক্ষীরা। টাইগার রিজার্ভের ২০২৪-’২৫ সালের বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ওই বছর কম্পাউন্ডিং অফেন্স রিপোর্ট বা কম গুরুতর অপরাধ হয়েছিল ৩ হাজার ২৮৬টি। কিন্তু তার পরের বছরে সংখ্যাটি নেমে আসে আড়াই হাজারে।



