Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুন্দরবনে প্রাণী-জল-জঙ্গলে ভারী ধাতুর ‘অনুপ্রবেশ’, বলছে গবেষণা

সুন্দরবনে প্রাণী-জল-জঙ্গলে ভারী ধাতুর ‘অনুপ্রবেশ’, বলছে গবেষণা
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:  বিপদের মুখে সুন্দরবন। তবে এবার কোনও বিপর্যয় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য নয়। এই বাদাবনের পরিবেশে ‘অনুপ্রবেশ’ ঘটেছে ভারী ধাতুর! তার ফলে দূষিত হয়ে উঠেছে গোটা ম্যানগ্রোভের জগৎ। এখানকার প্রাণীদের শরীর, জল প্রভৃতিতে পাওয়া গিয়েছে সীসা এবং ক্রোমিয়াম নামক ভারী ধাতু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক সম্রাট চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি গবেষণা হয়েছে। ওই গবেষক দলে আছেন গৌতমকুমার সাহা এবং তনয় মুখোপাধ্যায় নামে দুই অধ্যাপকও। সুন্দরবনের মেছো বিড়ালের শরীরে এই ভারী ধাতুর অস্তিত্ব নিয়ে তাঁরা গবেষণা করেন। তারই প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে বনদপ্তরে। তাতেই উল্লেখ করা হয়েছে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা। সম্রাটবাবুর বক্তব্য, মেছো বিড়ালের মল সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছে, তাদের শরীরে ০.০৫ মাইক্রোগ্রাম ক্রোমিয়াম এবং সীসা রয়েছে। এই ধাতুর উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে সেখানকার জল, গাছপালা, ছোট ছোট প্রাণী যেমন ইদুর, কাঁকড়া, মাছ, এমনকী পাখিদের  শরীরেও! বিষয়টি অবশ্যই চিন্তার কারণ। কারণ সুন্দরবনের সার্বিক জীবকুলে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। মেছো বিড়ালের শরীরে ভারী ধাতুর উপস্থিতি উদ্বেগজনক। কারণ অদূর ভবিষ্যতে এই ধাতু তাদের আয়ু কমিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা গবেষকদের। 

Advertisement

কিন্তু প্রশ্ন হল, কীভাবে সুন্দরবনের প্রাণীদের শরীরে এই ভারী ধাতুর প্রবেশ ঘটল? গবেষকদের ধারণা, শহুরে বর্জ্য নদীতে মিশছে এবং সেই দূষিত জল প্রবেশ করেছে সুন্দরবনের নদীতে। জলের সঙ্গে তারা সেসব খেয়ে ফেলার ফলেই এই দুই ধরনের ধাতুর অস্তিত্ব স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের মধ্যেও লক্ষণীয়। এসব প্রাণীর উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে ভারী ধাতু। তাদের বংশবিস্তার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হতে পারে এর দ্বারা।
ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন ট্রাস্ট বিস গ্রান্টের সাহায্যে এই গোটা গবেষণা করা হয়েছে। গত নভেম্বরে সুন্দরবনের লোথিয়ান, পাখিরালয় এবং পাথরপ্রতিমা থেকে মেছো বিড়ালের মল সংগ্রহ করে গবেষক দল। তাদের গবেষণা এবং নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে তিনমাস যাবৎ। তবে এর থেকেও বড় চিন্তার জায়গা থেকে যাচ্ছে যে, সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের শরীরেও কি তাহলে এই ধাতু ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে? এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণা দরকার বলে মনে করেন সম্রাটবাবু।

সম্পর্কিত সংবাদ