সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: নদী, খাঁড়ি, জঙ্গলে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করা নিয়ে বনদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা। তার প্রতিবাদে ‘সুন্দরবন ফরেস্ট সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন শুরু করলেন মৎস্যজীবীরা। রবিবার ‘দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম’ ডায়মন্ডহারবারের সুলতানপুর মৎস্য বন্দর থেকে লোথিয়ান দ্বীপ পদযাত্রা করে। তিন দিন ধরে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে তারা। ১১ জুন নৌকায় করে পৌঁছবে লোথিয়ান ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিতে। সেখানে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হবে।
ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা জানান, ১৯৭৩ সালে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নদী, খাঁড়ি ও জঙ্গলে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের উপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি মাতলা, রায়দিঘি ও রামগঙ্গা রেঞ্জ টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে লোথিয়ান দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে ব্যাঘ্র প্রকল্পের অঞ্চল। যে কারণে ওই নিষিদ্ধ অঞ্চলে গিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে পারবে না মৎস্যজীবীরা।
সরকারের কাছে তিনটি দাবি রেখেছে ফোরাম। সুন্দরবনের নদী, খাঁড়ি ও জঙ্গলে সর্বত্র মাছ ও কাঁকড়া শিকারের উপর বনদপ্তরের একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। এছাড়া মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়কালে (ব্যান পিরিয়ড) পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা দিতে হবে। পাশাপাশি মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গেলে বন্যপশুর আক্রমণে বা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সম্পাদক মিলন দাস এ সম্পর্কে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে সুন্দরবনজুড়ে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন লাগাতার চলবে।’ - নিজস্ব চিত্র