নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে... লেখার স্বাধীনতা’ চেয়েছিলেন সুকান্ত। এবার তাঁর কবিতায় বাস্তবিকই ভরে উঠবে কলকাতা শহরের দেওয়াল। ‘দেয়ালিকা’ কবিতার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যর জন্ম শতবর্ষ অনুষ্ঠান শহরজুড়ে পালিত হল শনিবার। সকালবেলায় যাদবপুরের সুকান্ত সেতু থেকে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার জানান, ‘আগামী এক বছর আমরা সুকান্তর জন্ম শতবর্ষ পালন করব। দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা হবে তাঁর কবিতার লাইন।’
যাদবপুরে এদিন একটি শোভাযাত্রা হয়। তারপর হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর পাশাপাশি দুপুরে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করে ‘কিশোর বাহিনী’। কলেজ স্ট্রিটে শিল্পীরা সুকান্তর কবিতার প্রেক্ষিতে ছবি আঁকেন। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পালিত হয় কিশোর কবির জন্ম শতবর্ষ। সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্ম শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আয়োজনে যাদবপুরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পবিত্র সরকার সহ রজত বন্দ্যোপাধ্যায়, সৃজন ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা।
দুপুরে কিশোর বাহিনীর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মিছিল আসে কলেজ স্ট্রিটে। হাজার হাজার শিশু-কিশোর ওই শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রায় লাঠি খেলা, ম্যাজিক, গান, নাচ পরিবেশিত হয়। শোভাযাত্রা শেষে হয় পথনাটিকা। পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সঙ্ঘ, কলকাতা জেলা কমিটির উদ্যোগে শিল্পীরা সুকান্তর এক একটি কবিতার বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ছবি আঁকেন। লেখক শিল্পী সঙ্ঘর সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা সারা বছর সুকান্ত ভট্টাচার্যর জন্ম শতবর্ষ পালন করব। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় পরিচালিত একটি তথ্যচিত্র তৈরি করা হচ্ছে। সেটি তৈরি শেষ হলে আমরা বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শন করব। বাংলার সিলেবাসে ফের সুকান্তর কবিতা যোগ করার দাবি জানাচ্ছি।’ এর পাশাপাশি ডিওয়াইএফআইয়ের পক্ষ থেকে কবি সুকান্তর জন্মস্থান কালীঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অন্যদিকে পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সুকান্ত নামাঙ্কিত মঞ্চ পুনরায় খোলার দাবিতে অবস্থানে বসে কলকাতা নাগরিক সম্মেলন। ওই সংগঠনের অভিযোগ, অবস্থান চলাকালীন তাদের মঞ্চ ভেঙে দেয় একদল দুষ্কৃতী।