নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: হাইকোর্টে এখনই স্বস্তি পেলেন না সুজিত বসু। রাজ্যে পালাবদলের পর পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। এখন তিনি জেল হেপাজতে রয়েছেন। সেই গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের গ্রীষ্মের অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। যদিও শুনানি শেষে বিচারপতি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এখনই কোনো স্বস্তি নয়!’
এদিন সুজিতের হয়ে মামলায় সওয়াল করেন আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা। তিনি বলেন, ‘আমার মক্কেল গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ করছেন। তিনি অভিযুক্ত নন।’ যদিও শুনানি শেষে বিচারপতি জানিয়ে দেন, এই মামলার শুনানি নিয়মিত বেঞ্চেই হবে। শুধু তাই নয়, ইডি গ্রেপ্তারি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও দেবে। সুজিত বসুর তরফেও হলফনামা দিতে হবে। অর্থাৎ হাইকোর্টের গরমের ছুটির পর এই মামলার শুনানি হবে নিয়মিত বেঞ্চে। সেখানেই ঠিক হবে প্রাক্তন দমকল মন্ত্রীর ভাগ্য।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইডির স্ক্যানারে ছিলেন সুজিত বসু। অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলার তদন্তের স্বার্থে গত ৬ এপ্রিল, ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু করে বিধানসভা ভোটপর্বের মধ্যে একাধিকবার ইডির তরফে হাজিরার নোটিস পান রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তখন নির্বাচনি প্রচারের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলে সময় চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালতের নির্দেশ মেনে নির্বাচন চলাকালীন ইডির হাজিরা এড়িয়ে ছিলেন তৃণমূল নেতা। তবে ভোট মিটতেই পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেন তিনি। কয়েক দফায় জেরাও করা হয় তাঁকে। তল্লাশি চলে তাঁর বাড়ি এবং অফিসেও। এরপর ১১ মে দীর্ঘ জেরা শেষে ইডি গ্রেপ্তার করে প্রাক্তন মন্ত্রীকে। তদন্তকারীদের দাবি, দমদম পুরসভায় শতাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে সুপারিশ করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এক্ষেত্রে মোটা টাকার লেনদেনও হয়েছে।