নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সিউড়ি জেলা সংশোধনাগারের অন্দরমহলে এবার তৈরি হবে সুগার ফ্রি মোরব্বা। সংশোধনাগারের আবাসিকরাই তৈরি করবেন এই মোরব্বা। সুগার ফ্রি মোরব্বা খোলাবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চালু হল অভিন্ন (৩) মোরব্বা হাব। রবিবার সকালে সংশোধনাগার চত্বরে এই মোরব্বা হাবের দ্বারোদঘাটন করেন কারাদপ্তরের এডিজি লক্ষ্মীনারায়ণ মীনা।
উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিধান রায় সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট এই মোরব্বা হাবে সংশোধনাগারের আবাসিকদের হাতে গড়া অন্যান্য সামগ্রীও পাওয়া যাবে। মিলবে গল্পের বই। এদিন দ্বারোদঘাটন পরবর্তীতে এডিজি নিজে একটি বই কেনেন। তিনি বলেন, এখানে আবাসিকদের হাতে তৈরি সুগার ফ্রি মোরব্বা পাওয়া যাবে। সাধারণের স্বাস্থ্য ও স্বাদের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখানে মোরব্বার পাশাপাশি চারাগাছ, বইও পাওয়া যাবে।
এদিন প্রথমেই সংশোধনাগার চত্বরে কথাসাহিত্যিক তথা স্বাধীনতা সংগ্রামী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়। ১৯৩০ সালে তৎকালীন সিউড়ি কারাগার তথা বর্তমান সংশোধনাগারে প্রায় সাড়ে চারমাস তিনি বন্দি ছিলেন। ভূমিপুত্র স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এদিন মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়। যদিও মূর্তি উন্মোচন পর্বে অনুষ্ঠান মঞ্চে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তারাশঙ্কর স্মৃতি সাহিত্য সমাজের তরফে দেবাশিস মুখোপাধ্যায় দাবি, করেন মূর্তির সঙ্গে কথাসাহিত্যিকের বাস্তবের চেহারার অনেক ফারাক রয়েছে। সেই সঙ্গে সংশোধনাগারের দিক করে মূর্তি স্থাপনের ক্ষেত্রেও তিনি প্রকাশ্যেই অভিযোগের সুর চড়ান। জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যদিও অনুষ্ঠান মঞ্চেই তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাফাই দেন সরকারি আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে এডিজিও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে কথাসাহিত্যিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হিসেবে এই মূর্তিকে তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, অভিন্ন (৩) মোরব্বা হাবের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে। সেখান থেকে তাঁরা বন্দি আবাসিকদের হাতে গড়া নানা ধরনের সামগ্রী সহ গাছের চারা কিনতে পারবেন। সর্বোপরি মিলবে সুগার ফ্রি মোরব্বা। জেলাশাসক বলেন, সংশোধনাগারের আবাসিকরা সংশোধিত হচ্ছেন।
আগামীতে তাঁরা আবারও সমাজের মূল স্রোতে ফিরবেন। নানা ক্ষেত্রে তাদের পারদর্শী করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। জ্যাম, জেলি, আচার সহ পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে আবাসিকদের দাবি ও প্রয়োজন অনুসারে নানা ধরনের কাজ শেখানোর ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।