সংবাদদাতা, মানকর: সোমবার গলসি বিধানসভায় শেষ দিনের প্রচারে ঝড় তুলল তৃণমূল। এদিন দুপুরে তৃণমূল প্রার্থী অলোক মাঝিকে নিয়ে গলসির কুমারপুকুর থেকে শিল্ল্যা বাজার পর্যন্ত রোড শো করেন তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। দুপুরের রোদ উপেক্ষা করে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও এদিন শোভাযাত্রা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। মহিলাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শতাব্দী এদিন গলসির বিজেপি প্রার্থীর এনকাউন্টার ও বুলডোজার চালানোর মন্তব্যের কড়া নিন্দা করেন। তিনি এদিন এলাকায় উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানান।
এছাড়া সকালে গলসি বিধানসভার অনুরাগপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অলোককুমার মাঝির সমর্থনে প্রচারে আসেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্সি। এদিন সকাল ১০টার সময় অনুরাগপুর বাজার থেকে থেকে শুরু হয় রোড শো। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তা চলে। এই শোভাযাত্রায় দলীয় প্রার্থীকে ঘিরে এলাকার তৃণমূল কর্মীদের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। শোভযাত্রায় সুদীপ্তা বলেন, আমরা প্রত্যেকেই জানি মা মাটি মানুষের সরকার আমাদের পাশে আমাদের সঙ্গে সব সময় রয়েছে। আমরা কোনো পরিযায়ী পাখিকে পশ্চিমবঙ্গে অ্যালাউ করব না।
এক তৃণমূল কর্মী বলেন, আমাদের প্রার্থীর সমর্থনে বহু মানুষ এসেছিলেন। ভোটে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে। অলোকবাবু বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র বিশ্বাস ও আস্থা। তৃণমূল আছে বলে বাংলায় শান্তি বিরাজ করছে। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, এলাকার মানুষ বলছে এমন করে ইভিএম মেশিনে ভোট দেব, তার আওয়াজ দিল্লি পর্যন্ত যাবে। দিল্লির জমিদাররা যেন ফিরেও বাংলার দিকে তাকাতে না পারে।এদিন বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র উচ্চগ্রামে ও পারাজ এলাকায় প্রচার করেন। নিজের এলাকায় প্রচারে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে দাবি বিজেপি কর্মীদের। এদিন দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে পানাগাড় বাজারে মিছিল ও রেলপাড় এলাকায় সভা করেন বিজেপি কর্মীরা। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, প্রচারে যা সাড়া মিলেছে, তাতে আমরা জিতবই।
সিপিএম প্রার্থী মণিমালা দাস কাঁকসার বিদবিহার, বনকাঠি এলাকায় প্রচার করেন। বাম নেতা হারাধন ঘোষ বলেন, মানুষের সাড়া পেয়েছি। বামেদের হাত ধরেই মানুষ পরিবর্তন চাইছে।
কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস বিশ্বাস এদিন সকালে পানাগড়, বিকালে বুদবুদে প্রচার করেন। কংগ্রেস নেতা পুরব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি ও তৃণমূল দু’জনের উপরেই মানুষ ক্ষুব্ধ। বিধানচন্দ্র রায়ের স্বপ্নের বাংলাকেই মানুষ আবার ফিরে পেতে চাইছে।