হঠাৎ ফুঁসল কংসাবতী! ভেসে গেল বহু সাঁকো
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: পুজো মিটলেও কাটেনি উৎসবের আমেজ। তার মধ্যেই কংসাবতী নদীর জল বাড়তে শুরু করেছে। আচমকা নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় মেদিনীপুর সদর ব্লকের একাধিক অস্থায়ী বাঁশের সেতু ভেসে গিয়েছে। এর ফলে মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পুজোর আগে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি করা সেতু জলে ভেসে যাওয়ায় ঘাটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মাথায় হাত পড়েছে। তার উপর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। নদীর জল আরও বাড়লে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি ও ফসলের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর থেকে মুকুটমণিপুর ড্যাম থেকে প্রথমে পাঁচ হাজার কিউসেক করে জল ছাড়া হয়। পরে বিকেল থেকে ১০ হাজার কিউসেক করে জল ছাড়তে শুরু করে। মঙ্গলবার সকাল থেকে জল ছাড়া বন্ধ হয়। তবে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, জল ছাড়ার কোনো আগাম বার্তা দেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই নদীর প্রবল স্রোতে একাধিক বাঁশের সেতু ভেসে গিয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন নদী পারাপার করা অসংখ্য মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
প্রতি বর্ষায় নদীর জল বেড়ে গেলে আমদইয়ের বাঁশের সাঁকো ভেসে যায়। ভরা নদীতে নৌকায় চেপে পারাপার করা ছাড়া উপায় থাকে না। যাত্রী ছাড়াও সাইকেল, মোটরবাইকও পারাপার করে নৌকা করেই। ২০২৫ সালে দুর্গাপুজোর নবমীর সন্ধেয় দুটি নৌকার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। যাত্রীরা ভাগ্যজোরে রক্ষা পেয়েছিলেন। তারপর থেকে আমদই ফেরিঘাটে নদীর উপরে পাকা সেতু তৈরির দাবি আরও জোরাল হয়েছে। সেতুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলন করছেন। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সেতু তৈরির দাবিতে ভোট বয়কটের ডাক পর্যন্ত দিয়েছিলেন। প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের ভোট বয়কট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। ঝাড়গ্রামের সাংসদ কালীপদ সরেন সংসদে সেতুর দাবি উত্থাপন করেছিলেন। বিগত সরকারের আমলে সেচমন্ত্রী সেতু তৈরির সার্ভের নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পরে নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি দল দু’ দফায় আমদই ঘাট পরিদর্শনে করে গিয়েছেন। ঝাড়গ্রাম জেলা পূর্তদপ্তর (রোডস) কংসাবতী নদীর ওপর আমদই ঘাটে পাকা সেতু তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশায় বুক বাঁধছেন নদী পাড়ের দুই জেলার বাসিন্দারা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, মেদিনীপুর সদর ব্লকের কনকাবতী, চুবকা সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০টি অস্থায়ী বাঁশের সেতু রয়েছে। প্রতিদিন হাজারেরও বেশি সাইকেল ও বাইক ওই সেতুগুলি দিয়ে যাতায়াত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে ফেরিঘাটগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পান। সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিয়েই সাধারণ মানুষ নদী পারাপার করেন। দু’জন মানুষ ও একটি বাইক নিয়ে নদী পার হতে ২০ টাকা খরচ হয়। মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর গুছাইত বলেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদী।