নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি পেনশন প্রাপক এবং পারিবারিক পেনশন প্রাপকদের একাংশের অ্যাকাউন্টে শুক্রবার আচমকা ঢুকেছে বকেয়া ডিএ-র বাকি টাকা। এর আগে মার্চ মাসের শেষে তাঁরা বকেয়া ডিএ-র একটি অংশ পেয়েছিলেন। তখন পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র অংশ দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ তখন দেওয়া হয়নি। ওইসময়ের বকেয়া ডিএ শুক্রবার পেনশন প্রাপকদের দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এটা হলে পুরো বকেয়া পেনশনারদের দেওয়া হয়ে যাবে। যদিও সরকারিভাবে এনিয়ে কিছু বলা হয়নি। অর্থদপ্তর এদিন পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোনো বিজ্ঞপ্তিও দেয়নি।
জাতীয়তাবাদী পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান আহ্বায়ক মনোজ চক্রবর্তী জানান, বকেয়া ডিএ-র বাকি অংশ দেওয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। তবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভার কর্মী পেনশনপ্রাপক ও পারিবারিক পেনশন প্রাপকরা এখনো কেউ বকেয়া ডিএ-র কিছুই পাননি। তাঁরা খুবই সমস্যায় আছেন। বিষয়টি দ্রুত দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি অনুরোধ করেছেন। কিছু সরকারি জটিলতার কারণে, এর পাশাপাশি, কলকাতা এলাকায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা পেনশন প্রাপকদের অনেকের প্রথম দফার বকেয়া ডিএ আটকে আছে। এই বিষয়টিও দেখা দরকার। এজি অফিস বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ডিএ নিয়ে আগামী সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক করবেন। পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ নিয়ে যেসব কর্মী সংগঠন মামলা করেছিল, বৈঠকে শুধু সেগুলিই ডাক পেয়েছে। তার আগে পেনশন প্রাপকদের বকেয়া ডিএ হঠাৎ মেটানো তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
মূল মামলাকারী সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, কোন হিসেবের ভিত্তিতে পেনশনারদের এদিন টাকা দেওয়া হল সেটা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। কারণ পুরো টাকা মিটিয়ে দেওয়া হল কি না সেই ব্যাপারে সরকার কিছু জানায়নি। সোমবারের বৈঠকে বিষয়টি উঠবে।