সৌরাংশু দেবনাথ, মুম্বই: ‘তুমি তো ক্যাচ নয়, পুরো বিশ্বকাপটাই ফসকালে যে হে...’
সৌরাংশু দেবনাথ, মুম্বই: ‘তুমি তো ক্যাচ নয়, পুরো বিশ্বকাপটাই ফসকালে যে হে...’
হেডিংলিতে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সে স্টিভ ওয়ার ক্যাচ মিসের পর এমন খোঁচাই শুনেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শল গিবস। বৃহস্পতিবার সেমি-ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে হারের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও নির্ঘাত এমন কটাক্ষই শুনছেন। তৃতীয় ওভারে সঞ্জু স্যামসনের লোপ্পা ক্যাচ ফেলে তিনিই যে ব্রিটিশ সমর্থকদের চোখে ভিলেন! জীবনদানের মুহূর্তে সঞ্জুর স্কোর মাত্র ১৫। শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যাটে এল ঝোড়ো ৮৯। সেটাই জেতা-হারার মধ্যে গড়ল তফাত। শেষ ওভারে ব্লাডপ্রেশার বাড়ানো পরিস্থিতিতে জয় এলেও বোলিং হয়ে উঠছে দুঃস্বপ্ন। কোচ গৌতম গম্ভীরের রাতের ঘুম কাড়তে যা যথেষ্ট। যতই শিশির ফ্যাক্টর আর ব্যাটিং সহায়ক পিচে রান তাড়া সহজ হয়ে উঠুক, এগুলো অজুহাতই। আড়াইশো রান নিয়েও এমন ধুকপুকানি হজম করা কঠিন। নেহাত যশপ্রীত বুমরাহ ছিলেন। নইলে ২৫৪ তাড়া করতে নেমে জেকব বেথেল কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিলেন বরুণ চক্রবর্তী, অর্শদীপ সিংদের। দুরন্ত শতরান হাঁকিয়েও শেষ পর্যন্ত ট্র্যাজিক নায়ক তিনি। ঠিক ৭ রান পিছনে থামল ইংল্যান্ড (২৪৬-৭)।
চুম্বকে, সঞ্জু বিক্রমে আবারও টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত। চার বছর আগে অ্যাডিলেডে এই আসরেরই সেমি-ফাইনালে ব্রিটিশদের হাতে দশ উইকেটে চুরমার হওয়ার শোধও মিশে থাকল এই জয়ে! মোতেরায় ফাইনালে নামার ছাড়পত্র মেলার নেপথ্যে বড় অবদান থাকল ফিল্ডার অক্ষর প্যাটেলের। দুটো দুরন্ত ক্যাচে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তার মধ্যে একটা ব্রুকের। অন্যটা রিলে ক্যাচ। উইল জ্যাকসের শট ভারসাম্য হারানোর মুহূর্তে শিবম দুবের দিকে ছুড়ে দেন অক্ষর। নাহলে নিশ্চিতভাবেই কাপ-স্বপ্ন চুরমার হওয়ার যন্ত্রণা সঙ্গী হত।
এই প্রতিযোগিতায় ১৩টির মতো ক্যাচ ফেলেছেন ভারতীয়রা। অক্ষরের ক্ষিপ্রতা সেজন্যই বাকিদের কাছে অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে, বরুণ আবার মূর্তিমান দুশ্চিন্তা। এদিন চার ওভারে ৬৪ রান খরচ করেছেন তিনি। যাবতীয় রহস্য উধাও। ঠিক যেভাবে ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মাকে নিয়ে সমস্যা থেকেই গেল, সেভাবে বরুণও টেনশনে রাখলেন। ভুললে চলবে না, ডাগ-আউটে কুলদীপ যাদব কিন্তু বসে রয়েছেন! অবশ্য একা বরুণ দায়ী নন। অক্ষর প্যাটেল, অর্শদীপরাও ওভারে দশের বেশি রান বিলিয়েছেন। তারই মধ্যে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম বুমরাহ। পাটা পিচে ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রানের বিনিময়ে তাঁর শিকার এক উইকেট। বুমবুম বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি বিশ্বের সেরা বোলার।
সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হারটা শাপে বর হয়েছে ভারতের। লম্বা আসরে এক-আধটা খারাপ ম্যাচ আসেই। ২০২৩ সালে ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনালে যেমন ছন্নছাড়া দেখিয়েছিল রোহিত ব্রিগেডকে। সূর্যদের সেই ফাঁড়াটা আগেই কেটে গিয়েছে। সঞ্জুর ধারাবাহিকতাও প্লাস পয়েন্ট। তিন নম্বরে এদিন ঈশান কিষান মূল্যবান ৩৯ রান করে গেলেন। চার নম্বরে প্রমোশন পাওয়া শিবম দুবেও সুযোগের সদ্ব্যবহারে সফল। তবে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবশ্যই উন্নতি দরকার তাঁর বোলিংয়ে।
জয়ের মুহূর্তে উৎসবমুখর ভিআইপি বক্সে দেখা গেল মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মাকে। আনন্দে উদ্বেল দুই মহারথী মাতলেন উচ্ছ্বাসে। পরিষ্কার, কী দুঃসহ চাপে ছিলেন উভয়ে। একই হাল আসমুদ্রহিমাচলেরও। রোজ রোজ কিন্তু বুমরাহর জিনিয়াস ত্রাতা হয়ে উঠবে না। সঞ্জুও প্রতিদিন অভিষেকের ব্যর্থতা আড়াল করতে পারবেন না!
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ২৫৩-৭ (সঞ্জু ৮৯, শিবম ৪৩, ঈশান ৩৯, হার্দিক ২৭, জ্যাকস ২-৪০, রশিদ ২-৪১)। ইংল্যান্ড ২৪৬-৭ (বেথেল ১০৫, জ্যাকস ৩৫, বাটলার ২৫, হার্দিক ২-৩৮, বুমরাহ ১-৩৩)।
ভারত জয়ী ৭ রানে। ম্যাচের সেরা- সঞ্জু স্যামসন।