Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুলে নিয়মিত ক্লাস আর ভালোবেসে পড়াশোনার রসায়নেই মিলল সাফল্য

মাধ্যমিকে রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুলের আদৃত সরকার ৯৯.৪৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬।

স্কুলে নিয়মিত ক্লাস আর ভালোবেসে পড়াশোনার রসায়নেই মিলল সাফল্য
  • ৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ, রায়গঞ্জ, সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মাধ্যমিকে রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুলের আদৃত সরকার ৯৯.৪৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬। তার এই সাফল্যের মূল রসায়ন, প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে গিয়ে ক্লাস করা। শিক্ষকদের পরামর্শ মন দিয়ে শোনা। চিকিৎসক হতে চায় এই মেধাবী ছাত্রটি। আর পড়ার ফাঁকে ফেলুদা পড়ে। 

Advertisement

মাধ্যমিকে যে দু’জন দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে তাদের একজন হল বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের ছাত্র সৌম্য পাল। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৪। ভবিষ্যতে আইআইটিতে পড়তে চায়। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সৌম্যর। যখনই ভালো লাগত তখনই পড়তে বসত, এটাই ওর ভালো ফলের রহস্য। পরীক্ষা দেওয়ার পর মেধাবী ছাত্রটি প্রথম দশে থাকার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসীই ছিল।
সৌম্যর পাশাপাশি দ্বিতীয় হয়েছে মালদহ রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের অনুভব বিশ্বাস। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৪। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। প্রথম স্থানাধিকারীর মতো তারও ভালো ফলাফলের অন্যতম কারণ স্কুলের শিক্ষকদের পরামর্শ মতো পড়াশোনা করা। স্কুলই ওকে তৈরি করে দিয়েছে বলে বিশ্বাস করে।
মাধ্যমিকে এবছর তৃতীয় স্থান পেয়েছে এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছে কোতুলপুর সরোজবাসিনী বালিকা বিদ্যালয়ের ঈশানী চক্রবর্তী। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। আগামী দিনে পদার্থবিজ্ঞানের কোনও শাখায় গবেষণা করতে চায়। অধ্যাবসায় এবং ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করে যাওয়াই ঈশানীর সাফল্যের চাবিকাঠি।
প্রথম স্থান পাওয়া আদৃতের বাড়ি রায়গঞ্জের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বীরনগরে। বাবা অমিতকুমার সরকার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী। মা সীমাদেবী গৃহবধূ। দিদি অর্পিতা সরকার। শুক্রবার তাঁদের বাড়ি শুভেচ্ছা জানাতে আসে স্কুল কর্তৃপক্ষ, আত্মীয়স্বজন, পুর কর্তৃপক্ষ, প্রশাসনিক আধিকারিকরা। উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা শুভেচ্ছা জানান। আদৃত বাংলা, ইংরাজি, অঙ্ক, ভৌতবিজ্ঞান, ইতিহাসে একশোয় একশো পেয়েছে। ও বলে, ‘চিকিৎসক হওয়ার জন্য এখন থেকেই  প্রস্তুতি শুরু করেছি। রোজ উপস্থিত থেকে স্কুলের গাইডলাইন অনুযায়ী চলেছি। ১০ জন প্রাইভেট টিউটর ছিলেন।’ 
দ্বিতীয় হওয়া সৌম্য থাকে বিষ্ণুপুর শহরের শ্যামরাই বাজার এলাকায়। মেধা এবং অধ্যাবসায়ের জোরে সাফল্য পেয়েছে বলে মত শিক্ষক, অভিভাবক ও আত্মীয়দের। মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাপত্র দিতে এসে এই মন্তব্য করেন বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষও। ভিডিও কলে সৌম্যকে শুভেচ্ছা জানান বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন। সৌম্য বলে, ‘গান শোনার শখ। নিজেও রবীন্দ্রসঙ্গীত গাই।’ ওর বাবা বংশীধর পাল দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করেন। মা রূপালিদেবী গৃহবধূ। সৌম্যর দুই বোন।
আর একজন দ্বিতীয় হওয়া ছাত্র অনুভব এখন মা-বাবার সঙ্গে দিল্লিতে আছে। প্রশিক্ষণের 
কাজে গিয়েছে। বাবা ওষুধ বিপণন সংস্থার আঞ্চলিক ম্যানেজার। মা রিমাদেবী গৃহবধূ। অনুভবের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপহরানন্দজী মহারাজ বলেন, ‘মেধাবী ছাত্র শুধু নয় ও সচেতন এবং সংবেদনশীল মানুষ। বরাবর প্রথম সারির ছাত্র হয়েও সাফল্য বা মেধা ওর মাথা ঘুরিয়ে দেয়নি।’ তার প্রমাণ পাওয়া গেল এদিন টেলিফোনে অনুভবের সঙ্গে কথা বলে। শান্ত ভঙ্গিতে সে বলে, ‘দ্বিতীয় হয়েছি। এটা ভাগ্যও বটে। আমার ব্যাচের প্রথম সারির সহপাঠীদের যে কেউ এই নম্বর পেতে পারত। তাদেরও সমান মেধা ও সমান দক্ষতা।’
তৃতীয় হওয়া ঈশানী কোতুলপুরের বাসিন্দা। তার হাতে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাপত্র তুলে দেন বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক। ভিডিও কলে শুভেচ্ছা জানান বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন। ঈশানী বলে, ‘টেস্ট বই খুঁটিয়ে পড়েছি। প্রতিটি প্রশ্নের কংক্রিট উত্তর লেখার চেষ্টা করেছি।’ ঈশানীর বাবা হীরালাল চক্রবর্তী এবং মা সোনালি মণ্ডল দু’জনেই কোতুলপুর হাইস্কুলের অঙ্কের শিক্ষক ও শিক্ষিকা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ