সুতপা গুহ, আইজল: গভীর রাত। ঘরের সবাই যখন ঘুমিয়ে, তখনও চোখে ঘুম নেই তিন সন্তানের মা জেড টি লালরিথাঙ্গির। চোখের সামনে মোবাইলের স্ক্রিন। স্ট্রবেরি চাষের নতুন নতুন কৌশল শেখার চেষ্টা করছেন। সংসারের কাজের ফাঁকেও সেই শেখা চলতেই থাকে। চোখে একটাই স্বপ্ন, নিজের পায়ে দাঁড়ানো। সেই স্বপ্নই তাঁকে মিজোরামের প্রত্যন্ত সাঙ্গাউ গ্রাম থেকে নিয়ে যাচ্ছে রোমে। রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ‘এফএও’ তাঁকে বেছে নিয়েছে ‘এফএও ১০০ ওমেন হিরোস ইন এগ্রিফুড সিস্টেমস অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট’-এর জন্য।
স্থানীয়দের কাছে ‘পি মারি-ই’ নামে পরিচিত ৩৫ বছরের লালরিথাঙ্গি। একসময় ছিলেন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। ২০২৪ সালে সাইহা জেলার কয়েকজন কৃষকের স্ট্রবেরি চাষের কথা জানতে পারেন লালরিথাঙ্গি। প্রায় ১ হাজারটি চারা দিয়ে শুরু হয় প্রথম স্ট্রবেরি চাষ। সেখান থেকে ১০ হাজারের বেশি চারা রোপণ। প্রথম বছরেই আয় হয়েছিল প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। সেই শুরু। বর্তমানে দুই হেক্টর জমিতে ১০ হাজারেরও বেশি স্ট্রবেরি গাছ রয়েছে তাঁর। স্ট্রবেরির পাশাপাশি অ্যাভোকাডো, কলা সহ নানা ধরনের ফল ও সবজি চাষ করেন তিনি। ২০২৫ সালে শুধু স্ট্রবেরি থেকেই তাঁর আয় হয়েছে ১০ লক্ষেরও বেশি। তৈরি করছেন স্ট্রবেরি ওয়াইনও, যা বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারে।
‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অব ওমেন ফার্মাস ২০২৬’-এর অংশ হিসাবে রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ‘এফএও’ তাঁকে বেছে নিয়েছে ‘এফএও ১০০ ওমেন হিরোস ইন এগ্রিফুড সিস্টেমস অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট’-এর জন্য। ১৩১টি দেশ থেকে মনোনীত ৬০০-রও বেশি মহিলার মধ্যে নির্বাচিত ১০০ জনের একজন লালরিথাঙ্গি। ভারত থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দু’জন। আগামী ১২-১৬ অক্টোবর রোমে এফএও-র সদর দপ্তরে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে এই সম্মান। আন্তর্জাতিক সাফল্যের কৃতিত্ব একা নিতে নারাজ লালরিথাঙ্গি। তাঁর কথায়, এই পথ পেরিয়ে আসতে পরিবারের সকলে সহযোগিতা করেছেন। চলতি বছরে মিজোরাম হর্টি ফেয়ারে লংগতলাই জেলার সেরা কৃষকের সম্মানও পেয়েছেন তিনি। এবার সেই সাফল্যের গল্প পৌঁছে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। জেড টি লালরিথাঙ্গির। নিজস্ব চিত্র।