Bartaman Logo
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জ্ঞানেশের ইস্তফা? ‘সময়সীমা’ শেষ আজ, দেশজুড়ে বিক্ষোভ বিরোধীদের, গান্ধীজয়ন্তীতে ময়দানে ককরোচরা

‘জি’ বনাম ‘জি’। জেন-জি বনাম জ্ঞানেশ কুমার। স্নায়ুযুদ্ধের পারদ ক্রমশ চড়ছে। আর দুয়ের মাঝে ব্যাপক চাপে মোদি সরকার।

জ্ঞানেশের ইস্তফা? ‘সময়সীমা’ শেষ আজ, দেশজুড়ে বিক্ষোভ বিরোধীদের, গান্ধীজয়ন্তীতে ময়দানে ককরোচরা
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘জি’ বনাম ‘জি’। জেন-জি বনাম জ্ঞানেশ কুমার। স্নায়ুযুদ্ধের পারদ ক্রমশ চড়ছে। আর দুয়ের মাঝে ব্যাপক চাপে মোদি সরকার। বলা ভালো, মোদি-শাহ জুটি। কারণ, তাঁরাই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর আপত্তি উড়িয়ে দেশের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে বেছে নিয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমারকে। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়েছিলেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু তাঁর জন্য অন্য এক ২৬ তারিখকেই ‘ডেডলাইন’ হিসাবে বেছে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন, ‘শনিবারের (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে আগামী ২ অক্টোবর মুম্বই থেকে শুরু হবে আন্দোলন। ক্রমশ যা ছড়াবে দেশজুড়ে। এবারের গান্ধীজয়ন্তীর শপথ হল, গণতন্ত্র বাঁচাও।’ এমনকি, বিরোধী দলগুলিকে নির্বাচন বয়কটের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘বিরোধীদের বলছি, হ্যাঁ, নির্বাচনে রিগিং হয়েছে। কিন্তু, আপনারা সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এই কারচুপিকে বৈধতা দিচ্ছেন। দৃঢ় অবস্থান নিন, এমন কারচুপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া বন্ধ করুন।’

Advertisement

দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশির মতামত উড়িয়ে নিজের ইচ্ছামতো একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার—সেই খবর ফাঁস হয়ে যেতেই শুরু হয়েছে তোলপাড়। এই ইস্যুতে ককরোচরা মাঠে নামতে একটু দেরি করলেও বিরোধী দলগুলি কিন্তু এদিন থেকেই রাস্তায়। দিল্লি থেকে লখনউ-পাটনা, জম্মু থেকে কলকাতা, পাঞ্জাব থেকে অসম ও অরুণাচল প্রদেশ—সর্বত্র জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কংগ্রেস।  দিল্লিতে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচির উত্তাপ কমাতে পুলিশ-আধা সেনা নামানো হয়। আন্দোলনের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে যায় রাজধানী। অসমে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈকে আটক করে পুলিশ। দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরিতে ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। এসএফআই-ডিওয়াইএফআই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর কার্যালয় ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিল। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন হুলুস্থুল চলে। যন্তরমন্তরেও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে হয়েছে বিক্ষোভ। তার জেরে আটক করা হয় নিট ইস্যুতে দিপকে-সোনাম ওয়াংচুকের সঙ্গে অনশনকারী আইসা নেত্রী নেহা বোরা, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবকে। পাটনায় প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানও চালিয়েছেন পুলিশ। সব মিলিয়ে ফিরে এসেছে নিট আন্দোলনের পরিবেশ। সুপ্রিম কোর্টেও শুক্রবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আরজি জানিয়েছেন শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী নামে এক আইনজীবী। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমার যে সিদ্ধান্ত, নির্দেশিকা এবং সফটওয়্যারে পরিবর্তন করেছেন, তা বাতিল করা হোক। একইসঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ এবং ডিরেক্টর জেনারেল (আইটি) সীমা খান্নার বিরুদ্ধেও। 
দু’মাস আগে জেন জি-ককরোচদের দীর্ঘ আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। জে পি নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিংয়ের মতো মন্ত্রীদের মাথা নীচু করে মেনে নিতে হয়েছিল জেন-জি’র যাবতীয় দাবি। সেই দিন কি আবার ফিরে আসছে? এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার। এদিন মিরাট এবং আগামী সোমবার বারাণসীতে তাঁর কর্মসূচি ছিল। মিরাটের চৌধুরী চরণ সিং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রেক্ষাগৃহ এবং লালা লাজপত রায় মেডিকেল কলেজে এই কর্মসূচির জন্য ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা খরচ করা হবে বলে টেন্ডারও ডাকা হয়। কিন্তু এদিন আচমকাই দু’টি অনুষ্ঠানই বাতিল করা হয়। কমিশনের অবশ্য দাবি, বাতিল নয়, দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কি এই পরিস্থিতি সামলানো যাবে? শুধু জ্ঞানেশ নন, রাস্তা খুঁজছেন মোদি-শাহও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ