স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘কথা’র সাফল্যের গল্প শোনালেন সাহেব ভট্টাচার্য এবং সুস্মিতা দে।
স্টার জলসার ধারাবাহিক ‘কথা’র সাফল্যের গল্প শোনালেন সাহেব ভট্টাচার্য এবং সুস্মিতা দে।
২০২৩-এর ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ‘কথা’। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব কতটা বেড়ছে?
সাহেব: ও বলুক। ওর অভিজ্ঞতা বেশি টেলিভিশনে।
সুস্মিতা: (হাসি) দায়িত্ব তো অনেকটাই। দর্শকের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে যায়।
সাহেব: অভিনেতা হিসেবে আমি অনেক বেশি জড়িয়ে পড়ি। শুরুর সময় অভিনেতা হিসেবে আমার চরিত্র গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন করেছি। পাঁচ, ছ’মাস কেটে যাওয়ার পর যখন চরিত্র দর্শকের পছন্দ হতে শুরু করে, তখন মনে হয় কীভাবে চরিত্রগুলোকে ধরে রাখা যায়। ফলে সব দিক থেকে ইনভলভমেন্ট বেড়ে যায়।
শ্যুটিংয়ে নিজের মতামত দেওয়ার সুযোগ হয়?
সাহেব: আমি শুনেছি অনেক জায়গায় ফরম্যাট থাকে। যা লেখা আছে, তাই করতে হবে। কিন্তু আমাদের ধারাবাহিকে শৈল্পিক দিক থেকে কারও কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। পরিচালক, লেখক, ক্যামেরা, লাইট— সব টিম পরামর্শ নেয়। তারাও অভিনয় নিয়ে আমাদের বলে। টিম ওয়ার্কেই সাফল্য আসে।
মফস্সল থেকে কলকাতায় সুস্মিতা কি অভিনয়ের জন্য এসেছিলেন?
সুস্মিতা: আমি মডেলিংয়ের কাজে কলকাতা আসতাম। দেখলাম যাতায়াত করে কাজ করাটা সমস্যার। তারপর থাকতে শুরু করি। সেখান থেকে কাজের সুযোগ আসে। ২০২০ থেকে অভিনয়ের কেরিয়ার শুরু।
চতুর্থ ধারাবাহিক ‘কথা’ কি সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা দিল?
সুস্মিতা: হ্যাঁ
সাহেব: বলাই বাহুল্য (হাসি)
এর কতটা কৃতিত্ব সাহেবের?
সুস্মিতা: অনেকটা। আমি প্রতিদিনই ওর থেকে কিছু না কিছু শিখি।
সাহেব: আসলে এখানে ‘কথা’র শ্যুটিং হয় ঠিকই। পাশাপাশি শিশু অভিনয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালাই (হাসি)। তার ক্লাস টিচার আমি। আমাদের পরিচালক তার প্রিন্সিপাল। বাচ্চারা অভিনয়ও করে, রিলও করে।
সুস্মিতা: আমি ভালো স্টুডেন্ট (হাসি)।
সাহেব: হ্যাঁ, ও ভালো ছাত্রী। আমরা এখানে থিয়েটারের মতো করে কাজ করি। তুই এটা বল, আমি এটা বলব...। এভাবে আরকি...। আমিও ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি। অভিনেতাদের মধ্যে এই আদানপ্রদান আছে বলেই দর্শকের এত ভালো লাগে।
রিলের দুনিয়ার বদলটা সাহেব কীভাবে দেখেন?
সাহেব: কিছু ভালো কাজ অবশ্যই হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিছু কাজ কুরুচিকর। এই আলোচনা চলতেই থাকবে। তবে বদল আসবেই, সেটাই একমাত্র সত্যি।
এখন কি ইন্ডাস্ট্রিতে সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ারের ভিত্তিতে কাস্ট হয়?
সাহেব: এটা সত্যি। ভালোর জন্য হচ্ছে নাকি খারাপের জন্য সেটা পরের কথা। দেখুন, অভিনেতা আর কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পার্থক্য বুঝতে হবে। অভিনেতারা যখন অভিনয় বাদ দিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েট করছেন, তাহলে কনটেন্ট ক্রিয়েটাররা কেন অভিনয় করতে পারবেন না? তবে আমার মনে হয়, দিনের শেষে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে হবে। এই মিক্সিংয়ে ভুল নেই। কিন্তু কাস্টিংয়ের সময় অভিনেতাকে তৈরি হয়ে আসতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট দেখেন?
সুস্মিতা: হ্যাঁ, চোখে পড়ে।
সাহেব: বাপরে! (সুস্মিতাকে দেখিয়ে) ওর কাছে সব খবর আছে। আমরা অনুরাগীদের সঙ্গে খুব ইনটারঅ্যাক্ট করি। তাঁরা শ্যুটিংয়ে দেখা করতে আসেন। আমরা এভাবেই থাকতে চাই।
যে প্রশ্নের উত্তর অনুরাগীরা এখন পাননি, আপনারা সত্যিই কি প্রেম করছেন?
সাহেব: (সুস্মিতাও গলা মেলালেন) দেখাই যাক না কী হয়! (হাসি)
স্বরলিপি ভট্টাচার্য