নয়াদিল্লি: রান্নার গ্যাসের দাম আরও একদফা বাড়িয়েছে কেন্দ্র। দেশের হতদরিদ্র পরিবারগুলির জন্য উজ্জ্বলা প্রকল্পে ভরতুকি যুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা বছরে ৯টি থেকে কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে। চরম মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এভাবে প্রান্তিক মানুষদের হেঁশেলে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে মোদি সরকারকে একহাত নিলেন রাহুল গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, দেশের লক্ষ লক্ষ দরিদ্র পরিবার ও মহিলাদের ক্ষতিকর কাঠের জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঠেলে দেওয়া হল। গত ১২ বছরে গরিব-বিরোধী নীতি ও আপসমূলক বিদেশনীতির কারণেই দেশ এই অবস্থায় পৌঁছেছে। ৫ কেজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও তোপ দেগেছেন রায়বেরিলির সাংসদ। বলেছেন, ওই ছোটো সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করেন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। সেই সিলিন্ডারের দামও ৩২৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তাহলে পরিযায়ী শ্রমিকরা কত রোজগার করবেন, কী খাবেন বা সঞ্চয় করবেন?
রাহুলের অভিযোগ, ‘মোদি সরকার ধনী ব্যবসায়ীদের ঋণ মকুব করছে, আর নিজেদের ব্যর্থতার দায় দরিদ্রদের ঘাড়ে চাপাচ্ছে। এটাই মোদি সরকারের লুটের মডেল।’ তৃতীয় মোদি সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে মঙ্গলবার ‘প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তব’ শীর্ষক একটি নথি প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। সেখানেও কর্মসংস্থান, বিদেশনীতি, কৃষি, মূল্যবৃদ্ধি সহ নানা ইস্যুতে মোদি সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশের প্রধান বিরোধী দল। কংগ্রেস নেতা রাজীব গৌড়া ও অমিতাভ দুবে সাংবাদিক সম্মেলনে এই নথি প্রকাশ করেন। গৌড়া বলেছেন, ভারতকে সারা বিশ্বের কর্মসংস্থান তৈরির কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার কথা বলেছিল মোদি সরকার। কিন্তু বাস্তবে প্রতি ১০ স্নাতকের মধ্যে চারজনই কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত। শহরে যুবদের বেকারত্বের হার ১৮.৪ শতাংশ। মুল্যবৃদ্ধি থেকে রেহাই দেওয়ার কথা বলেছিলেন মোদি। কিন্তু সত্যিটা হল, ২০১৪ সালের পর থেকে রান্নার গ্যাসের দাম ১২৩ শতাংশ বেড়েছে। পেট্রল ও ডিজেলে এই বৃদ্ধি যথাক্রমে ৪৪ ও ৭৩ শতাংশ।
২০২৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতির বহর পাঁচ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছে যাবে বলে মোদি দাবি করেছিলেন। ওই প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষের সুরে অমিতাভ দুবে বলেছেন, বাস্তবে দেশের অর্থনীতির বহর চার লক্ষ কোটি ডলারের নীচে নেছে। আর ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ অর্থনীতিতে নেমে গিয়েছে।