Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কামদুনি গণধর্ষণ-খুনের ন্যায়বিচারে সরকারি সাহায্যের আশ্বাস শুভেন্দুর

কামদুনি গণধর্ষণ-খুনে সরকারি সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারকে আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করা হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

কামদুনি গণধর্ষণ-খুনের ন্যায়বিচারে সরকারি সাহায্যের আশ্বাস শুভেন্দুর
  • ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: ১৩ বছর আগের কামদুনি কাণ্ডে ন্যায় বিচার পেতে এবার সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে। শনিবার বারুইপুরে সূর্যপুর ফাঁড়ি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কামদুনি কাণ্ডে বর্তমানে নির্যাতিতার পরিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকার এ বিষয়ে আগের সরকারের মতো কোনো বিরোধিতা করবে না। এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের যে কাউন্সিল রয়েছে, তাদেরকে বলে দেওয়া হবে। সরকারি আইনজীবী দিয়েও নির্যাতিতার পরিবারকে সাহায্য করা হবে। একই সঙ্গে নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, এই সরকার কখনো ছোট্ট ঘটনা, লাভ অ্যাফেয়ার ছিল, অন্তঃসত্ত্বা ছিল বা দশ লাখ দিলেই হবে, এমন কোন মন্তব্যও করবে না। কামদুনি কাণ্ডেও যাতে নির্যাতিতার পরিবার বিচার পায়, সেটাই আমরা আশা করব।

Advertisement

এদিকে, বারুইপুরে যে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুন করার যে ঘটনা ঘটেছে, তারজন্য  এলাকার বেআইনি মদ-গাঁজার কারবারকেই দায়ি করছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব উদ্ধারের জন্য বিশেষ অভিযান চালাতে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিন শুভেন্দুবাবু বলেন, রাজ্যবাসীর কাছে আমার আবেদন, কোথাও যদি বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা, চরস ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে বা দেখা যায়, অবিলম্বে পুলিশকে জানান। এমনিতেই বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ এসব ধরছেই। তবে গ্রামীণ এলাকা থেকেও এর মূল উপড়ে ফেলা দরকার, যাতে আমরা সামাজিক দূষণ থেকে বাঁচতে পারি। এর জন্য দু’সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দুবাবু।
এদিকে, বারইপুর কাণ্ডের পর এখনও সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হয়নি সূর্যপুরের জনজীবন। দোকানপাট অনিয়মিত ভাবে খোলা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর অনেকেই বন্ধ রাখছেন দোকান। ভয়ের বাতাবরণ কাজ করছে অনেকের মধ্যেই। তবে ভীত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এলাকা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে, এটা আমার আশা। পুলিশ সুপার এখানে মাইকিং করবেন। যারা খুনি, ধর্ষক রেললাইন ভাঙতে গিয়েছিলেন, তাঁদের ভয় থাকা ভালো। তাদের শিক্ষা দেওয়া দরকার রয়েছে। অন্যদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এদিন নির্যাতিতা নাবালিকা ও গণ পিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এসে সূর্যপুরে নয়া ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানে দুজন এসআই, দুজন এএসআই, ছ’জন পুরুষ ও দু’জন মহিলা কনস্টেবল এবং আট জন সিভিক ভলেন্টিয়ারকে নিযুক্ত করা হয়েছে। রয়েছে মহিলা হেল্প ডেস্ক সহ সাইবার ক্রাইম অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও। গোটা এলাকাকে পুলিশি নজরদারি মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ