চন্দন দাস: ডার্বি জেতার আনন্দ সবসময় আলাদা। আর তা যদি কোনো প্রতিযোগিতার ফাইনাল হয়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! দীর্ঘ ফুটবল কেরিয়ারে একাধিক বড়ো ম্যাচ খেলেছি। তবে ২০০৪ ডুরান্ড কাপ ফাইনাল আজীবন স্মৃতির মণিকোঠায় থেকে যাবে। সেবার খাতায়-কলমে ফেভারিট ছিল মোহন বাগান। আমাদের টিমও যে খুব খারাপ ছিল, তা নয়। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালীন একাধিক ফুটবলার চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিল। ফাইনালের আগে খেলার মতো অবস্থায় ছিল মাত্র ১৩ জন। তারউপর ব্যক্তিগত কারণে টুর্নামেন্টের শুরু থেকে দলের সঙ্গে ছিলেন না কোচ সুভাষ ভৌমিক। বিকাশদা’র (পাঁজি) প্রশিক্ষণেই আমরা ফাইনালে পৌঁছাই। খেতাবি লড়াইয়ের আগের দিন দলের সঙ্গে যোগ দেন সুভাষদা।
এক বছর আগে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও টাই-ব্রেকারে হেরেছিল ইস্ট বেঙ্গল। তাই নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই ম্যাচের আগের সুভাষদা বলেছিলেন, এবারও জিততে ব্যর্থ হলে আমরা যেন তাঁকে মুখ না দেখাই! ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছিলাম। ২২ মিনিটেই পেনাল্টি আদায় করি। কিন্তু সেদিন কেউই শট নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি। বাধ্য হয়ে অধিনায়ক হিসাবে আমাকেই দায়িত্ব নিতে হয়। তবে সত্যি বলছি, আমারও সেদিন পা কেঁপেছিল। তবে তা সামলে লক্ষ্যভেদে সফল হই। এক গোলে এগিয়েই বিরতিতে মাঠ ছাড়ি আমরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ে মাধব। পরের মিনিটেই ডগলাসের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে মোহন বাগান। এই পর্বে একের পর এক আক্রমণে আমাদের রক্ষণে নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল ওরা। তবে সেদিন গোলের নীচে রজত বেশ কয়েকবার দলের নিশ্চিত পতন আটকায়। ম্যাচের সংযোজিত সময়ে বক্সের কোনাকুনি জায়গায় ক্লাইম্যাক্সের থেকে বল পেতেই শট নিই। পায়ে-বলে সংযোগটা দারুণ হয়েছিল। সুব্রত পাল চেষ্টা করেও বলের নাগাল পায়নি। নিঃসন্দেহে, ওটা আমার কেরিয়ারের অন্যতম সেরা গোল। জাল কাঁপিয়েই সোজা ছুটেছিলাম সুভাষদার কাছে। সেদিন ওঁর মুখে ছিল হাজার ওয়াটের আলো। যা পরের দিন দীপাবলির রোশনাইকেও হার মানানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
দীর্ঘ ২২ বছর আগে সেটাই ছিল ইস্ট বেঙ্গলের শেষ ডুরান্ড কাপ জয়। এরপর ঐতিহ্যশালী টুর্নামেন্টে আমাদের কপালে জুটেছে শুধুই ব্যর্থতা। তিন বছর আগে ফাইনালে পৌঁছালেও মোহন বাগানের কাছে হারতে হয়েছিল। এবার তাই হাবাস ব্রিগেডের সামনে প্রতিশোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
ছবি প্রতিবেদকের সৌজন্যে