


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: শহরে সেনা সম্মেলন, এশিয়া কাপে ম্যাচ শেষে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন না করা—পৃথক ঘটনা হলেও রীতিমতো সংগতিপূর্ণ। পহেলগাঁও কাণ্ড এবং জবাব হিসেবে পাকিস্তানে চালানো অপারেশন সিন্দুরে সেনাবাহিনীর সাহসিকতা প্রদর্শন এবং জাতীয় নিরাপত্তা। দুটি ঘটনার যোগসূত্র হিসেবে রয়েছে এই ফ্যাক্টরগুলি। এরকম আবহেই একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। ছাত্রাবস্থা থেকেই সেনাবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগানোর উদ্দেশ্যে দেশের স্কুলে স্কুলে আয়োজিত হবে বীরগাথা ৫.০ প্রতিযোগিতা। তবে, তাতে মূলত হিন্দু রাজাদের সামরিক কৌশল, শৌর্য, বীর্য সম্পর্কে প্রশস্তিমূলক প্রবন্ধ লিখতে বলা হয়েছ। বিতর্কের উৎস সেখানেই।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই উদ্যোগ স্কুলে স্কুলে শিক্ষামন্ত্রক সফল করার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রোজেক্ট বীরগাথা গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ডস পোর্টাল (গ্যাপ)-এর অধীনে শুরু হয়েছে ২০২১ সালে। এটি পঞ্চম বছর বলে নাম দেওয়া হয়েছে বীরগাথা ৫.০। সাহসিকতার জন্য সেনাবাহিনীর যে অফিসার এবং জওয়ানরা পুরস্কৃত হন, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তাঁদের পরিচিতি বাড়াতেই এই উদ্যোগ। তাঁদের নিয়ে গল্প, প্রবন্ধ বা কবিতা লেখা, ছবি আঁকা, ভিডিয়ো প্রেজেন্টেশন প্রভৃতির প্রতিযোগিতা করা হচ্ছে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলবে। শ্রেণিভিত্তিক তিনটি ক্যাটিগরিতে ছাত্রছাত্রীরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে। প্রথম ১০০ জন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কৃত করবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক।
এই প্রতিযোগিতায় সেনাবাহিনীর সাফল্যের সঙ্গে বাড়তি বিষয়বস্তু হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় রাজাদের শৌর্য, বীর্য এবং সামরিক কৌশল নিয়ে রচনা। উল্লেখ করা হয়েছে কলিঙ্গরাজ খারবেল (জৈন), রাজপুর বীর পৃথ্বীরাজ চৌহান, মারাঠা অধিপতি ছত্রপতি শিবাজির নাম। এছাড়া কারও নাম উল্লেখ নেই। যদিও বলা হয়েছে, এঁদের বাইরেও কোনও চরিত্র নিয়ে প্রবন্ধ লেখা যাবে। তবে, বিশেষ করে হিন্দু রাজাদের প্রশস্তি রচনার মধ্যে দিয়ে আরএসএসের হিন্দু এজেন্ডাই ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা বলেই দেখতে পাচ্ছেন কেউ কেউ। সিপাহি বিদ্রোহ, আদিবাসী বিদ্রোহের নেতাদের নিয়ে প্রবন্ধ লেখার কথা বলা হলেও কারও নাম সেখানে উল্লেখ করা নেই। সেখানেও উঠছে প্রশ্ন।
গত ২৫ জানুয়ারি বীরগাথা ৪.০-এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভাষণেও এমনই ইঙ্গিত মিলেছিল। তিনি উল্লিখিত তিন রাজার সঙ্গে চোল বংশ এবং মগধের শাসকদের সামরিক শক্তি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। এবারের প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু সেই সুরেই বাঁধা হয়েছে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিযোগিতা শেষ করতে বলা হলেও জেলাগুলিতে এই বার্তা গিয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকেই। তাই, কার্যক্ষেত্রে এটি কতটা বাস্তবায়ন হবে, সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। সূচি অনুযায়ী দুর্গাপুজোর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রকে রেজাল্ট পাঠাতে হবে। স্কুল বন্ধ থাকায় সেটাও সম্ভব হবে না।