


কাঠমাণ্ডু: অশান্ত নেপালে আটকে বহু ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরেই আটকে অন্তত ৪০০জন। জানা যাচ্ছে, শীঘ্রই ভারতীয় সেনার বিমানে দেশে ফেরানো হবে তাঁদের। দুর্নীতি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রতিবাদে সোমবার থেকেই জ্বলছে নেপাল। প্রবল বিক্ষোভে পতন হয়েছে কে পি ওলি সরকারের। তা সত্ত্বেও অশান্তির আগুন নেভেনি। আর তাতেই মহা সংকটে পড়েছেন নেপালে আটকে থাকা ভারতীয়রা। কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা গৌরি গত সপ্তাহ থেকে নেপালেই রয়েছেন। এসেছিলেন কৈলাস-মানসরোবর যাত্রার উদ্দেশ্য নিয়ে। সেসব ভালোভাবে মিটেছে। বুধবার ছিল বাড়ি ফেরার বিমান। কিন্তু গত তিনদিন ধরে বিমানবন্দর বন্ধ। তাই নেপালেই আটকে রয়েছেন তিনি। বিগত কয়েকদিনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বললেন, ‘মঙ্গলবার অবধি হোটেলে বুকিং করা ছিল। কিন্তু বিমান বন্ধ থাকায় এখনও সেখানেই আটকে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।’ তাঁর মতো আরও অনেক ভারতীয় কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হোটেলে আটকে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০জন বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। রয়েছেন বহু পর্যটকও। গৌরির আরও অভিযোগ, ‘হোটেলের ঘর থেকে বেরোতে পারছি না। শুনেছি কার্ফু জারি হয়েছে। কিন্তু এখনও বন্দুক হাতে ছাত্ররা রাস্তায় ঘুরছে। কোথাও আগুন জ্বলছে, কোথাও অবরোধ। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।’
এদিকে, বুধবারও ভারত-নেপাল বিমান পরিষেবা চালু হয়নি। এয়ারইন্ডিয়া, ইন্ডিগো সহ দেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থার তরফে এক্স হ্যান্ডলে বিষয়টা জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া অবধি নেপালে বিমান পরিষেবা চালু করা সম্ভব নয় বলেই ইঙ্গিত তাদের। বুধবারও নেপালের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। দেশজুড়ে সেনার কার্ফু জারি হয়েছে। কাঠমান্ডু সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেনার দাবি, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করতে পারেন আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ। লুঠপাট চালানোর আশঙ্কাও থাকছে।