ডিজাইনের মোমবাতি তৈরিতে ব্যস্ত বোধোদয় শিশু হোমের পড়ুয়ারা
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: সামনেই আলোর উৎসব দীপাবলি। অন্যান্য বছরের মতো এবারও নানা ডিজাইনের মোমবাতি তৈরি করছে কাঁথির ফরিদপুরের সমাজলকল্যাণ দপ্তর পরিচালিত ‘বোধোদয়’ শিশু হোমের আবাসিক পড়ুয়ারা। তাদের হাতে তৈরি নানা আকারের মোমবাতির আলোর রোশনাইয়ে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে চারদিক। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই আবাসিকরা মোমবাতি তৈরির কাজ শুরু করেছে। আবাসিকরা অনাথ এবং নানা মানসিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এরা স্থানীয় স্কুলগুলিতে পড়াশোনা করে। কিন্তু, তাদের কোনোকিছুতেই উৎসাহের কমতি নেই। অনায়াসেই খাপের ভিতরে গলানো মোম ঢালা, সুতো বসানো থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত মোমবাতি তৈরি ফেলে তারা। এভাবেই ১০-১২ হাজার মোমবাতি তৈরি করেছে শুভজিৎ পড়ুয়া, সুমন মাইতি, শুকদেব টুডুরা। অর্ডার অনুযায়ী মোমবাতি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহও হচ্ছে। রয়েছে বড়ো আকারের, রংবেরংয়ের ছোটো ও দাবার গুটির আকারের মোমবাতি। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার হোমে গিয়ে দেখা গেল, প্রশিক্ষক বিশ্বজিৎ হাজরার তত্ত্বাবধানে মোমবাতি তৈরি করছে আবাসিকরা। এখানে ৪৬জন আবাসিক রয়েছে। তার মধ্যে  ৩০জন মোমবাতি তৈরির কাজ করেছে। পড়াশোনার ফাঁকে অবসর সময়েই তারা মোমবাতি তৈরি করে। অনেক সক্ষম মানুষের মাঝে নিজেদের অস্তিত্বকে আলাদা করে চিনিয়ে দিতে পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু করে স্বাবলম্বী হতে চায় আবাসিকরা। বিবেকানন্দ লোকশিক্ষা নিকেতন পরিচালিত এই হোমের সুপার তাপস জানা সহ অন্যান্য কর্মীরা সবসময় আবাসিকদের পাশে থাকেন। সুপার বলেন, প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তাদের মধ্যে উৎসাহ যথেষ্ট। বছরের অন্যান্য সময়ে পাটের বিভিন্ন সামগ্রী, গ্রিটিংস কার্ড, রাখি তৈরি করে আবাসিকরা। আর দীপাবলির সময় তারা মোমবাতি তৈরি করে। মোমবাতি কিংবা অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি থেকে যা উদ্বৃত্ত হয়, তার একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসাবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই যোগ করে দেওয়া হয়।