Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিদ্যাপীঠ রোডে দুর্ঘটনার শিকার পড়ুয়ারা, রাতে মদ-গাঁজার আসর

কলেজ, স্কুল সহ নানা প্রতিষ্ঠান এবং তিনটি ওয়ার্ডের হাজার হাজর মানুষের নিত্য যাতয়াত। অথচ, মাসের পর মাস ভাঙাচোরা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি। রোজ সমস্যায় পড়ছে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা।

বিদ্যাপীঠ রোডে দুর্ঘটনার শিকার পড়ুয়ারা, রাতে মদ-গাঁজার আসর
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কলেজ, স্কুল সহ নানা প্রতিষ্ঠান এবং তিনটি ওয়ার্ডের হাজার হাজর মানুষের নিত্য যাতয়াত। অথচ, মাসের পর মাস ভাঙাচোরা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি। রোজ সমস্যায় পড়ছে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা। তার উপরে সন্ধ্যা হলেই রাস্তা ও লাগোয়া গলি মদ্যপদের ঠেকে পরিণত হচ্ছে। পুলিশের নজরদারির বালাই নেই বলে অভিযোগ। নিমতার বিদ্যাপীঠ রোডের বাসিন্দারা অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার ও এলাকাকে নেশাড়ু মুক্ত করার দাবিতে সরব হয়েছেন। পুরসভার তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে রাস্তা সংস্কারের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার ভোটের আগেই করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Advertisement

উত্তর দমদম পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের এমবি রোড থেকে ঢুকে গিয়েছে বিদ্যাপীঠ রোড। এই রাস্তার উপর মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যালয়, উত্তর দমদম বিদ্যাপীঠের বালক ও বালিকাদের স্কুল রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে রোজ স্কুল ও কলেজের কয়েকশো পড়ুয়া যাতায়াত করেন। এছাড়া ১৩ নম্বর ওয়ার্ড তো বটেই, পাশাপাশি ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারাও যাতায়াত করেন। রাস্তার উপর ইতিহাস বিজড়িত অভয়া আশ্রম রয়েছে। অথচ, এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গত কয়েক মাস ধরে বেহাল। পিচ উঠে গিয়ে স্টোন চিপস দাঁত বের করে রেখেছে। কোথাও খানাখন্দ, বৃষ্টিতে জমে যায় জল। বেহাল এই রাস্তায় নিত্য যাতায়াতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। এলাকাবাসী বহুবার পুরসভার বিভিন্ন স্তরে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
শুধু রাস্তার সমস্যা রয়েছে, এমন নয়। রাস্তায় আলোর সমস্যাও রয়েছে। রাত যত বেশি হয়, ততই এই রাস্তাকে কেন্দ্র করে মদ্যপদের আসরে লোক বাড়তে থাকে। অভয়া আশ্রমের গেট, হনুমান মন্দিরের গলি, দেবীনগরের পিছনের এলাকা নেশাড়ুদের চলমান ঠেকের রূপ নেয়। ভোর রাত পর্যন্ত এসব এলাকায় গাঁজা ও মদের ঠেক চলে বলে অভিযোগ। রাতে আতঙ্কে যাতায়াত করেন এলাকাবাসীরা, বিশেষ করে নারীরা। পুলিশের টহলদারি দেখাই যায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রশাসনের অনেক স্তরে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে প্রকাশ্যে মদ ও গাঁজার ঠেক চালানো হচ্ছে। অথচ, কারও কোনও হুঁশ নেই। রাতে মেয়েরা স্কুল-কলেজ বা অফিস থেকে না ফেরা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়।
স্থানীয় কাউন্সিলার প্রশান্ত দাস মদ্যপদের দাপাদাপির কথা স্বীকার করে নেন। বলেন, কিছুদিন ধরে সমস্যা বেড়েছে। বেহাল রাস্তার বিষয়ে বলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে পুরসভাকে বলে ওই রাস্তায় প্যাচওয়ার্ক করিয়েছিলাম। তা উঠে গিয়েছে। তাই ভোটের আগে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাস্তা সংস্কারের জন্য পুরসভায় চিঠি দিয়েছি, অনেক চেষ্টাও করেছি। কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার হলেও সেই কাজ এখনও শুরু হয়নি। অবিলম্বে ওই কাজ শুরু করা বা রাস্তার সম্পূর্ণ সংস্কারে আরও অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ