নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে দফায় দফায় রণক্ষেত্র পরিস্থিতি। ক্যাম্পাস জুড়ে চলে তাণ্ডব। এই ঘটনার পরে প্রায় কয়েকঘণ্টা কেটে গিয়েছে। তবে এখনও প্রতিবাদে অনড় রয়েছেন পড়ুয়ারা। গতকাল, রবিবার ক্যাম্পাস জুড়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। স্লোগান পাল্টা স্লোগান শোনা যায়। তা আজ উধাও। ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিবাদ করছেন ‘নীরবতা’র মাধ্যমে। কেউ তুলছেন না কোনো স্লোগান। হাতে পোস্টার-ব্যানার নিয়ে মূল গেটের সামনেই চলে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।
গতকাল, এসআরএফটিআই-তে মেন থিয়েটার হলে কেন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত-কে ভাড়া দেওয়া হয়েছে? তা নিয়ে বচসা শুরু হয়। যা পোঁছে যায় হাতাহাতি থেকে তুমুল সংঘর্ষে। অভিযোগ ভাঙচুর যেমন চালানো হয়েছে, তেমনই অধ্যাপকদের মারধরও করা হয়েছে। ছাত্রদের তরফে এও দাবি করা হয়েছে, দিল্লির যন্তরমন্তরে যেমন ছাত্র-ছাত্রীদের লাঠিতে পেরেক জাতীয় কিছু লাগিয়ে হামলা করা হয়েছিল। এক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের তীর সরাসরি, এভিবিপি-র শাখা সংগঠন এবিজিপির দিকেই তুলছেন তাঁরা। সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, আগেই এই সভার অনুমতি নেওয়া ছিল। যদিও এসআরএফটিআইয়ের অ্যালুমনি আসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অনির্বাণ দত্ত প্রশ্ন তুলছেন,‘ভাড়া আমরা দিতেই পারি, কিন্তু যাঁরা লাঠিতে পেরেক লাগিয়ে নিয়ে আসে, তাঁদের কি এই হল ভাড়া দেওয়া উচিত?’ পাল্টা এভিবিপির কলকাতা মহানগর সম্পাদক স্বাধীন হালদার প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘একের পর এক বিদ্যার পবিত্র স্থানকে অপবিত্র করার চক্রান্ত আর মেনে নেওয়া হবে না। আজকের এই কর্মকাণ্ডে যাঁরা যুক্ত তাঁদের সকলের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
গতকাল, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের এই সভার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে। যে পোস্টারে ছিল স্বামী বিবেকানন্দের ছবি। ক্যাম্পাসে দেশ বিরোধী স্লোগান থেকে শুরু করে আরএসএস এবং বিজেপিকে গো ব্যাক স্লোগান দেওয়ারও অভিযোগ পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ধিক্কার জানিয়েছে বিজেপি। রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা দাবি করেন, ‘এটা একটা পরিকল্পনা বাম এবং তৃণমূলের। এরা বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করতে চায়।’ পাল্টা তোপ দাগেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। গতকাল তিনি বলেন, ‘কোনো সভ্য দেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রদের উপর আক্রমণ করা হলেও পুলিশ নীরব দর্শক। বিজেপির এই বেলেল্লাপানা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ছাত্রদের সুরাক্ষা নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে।’ নিরাপত্তার দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন ছাত্র-ছাত্রীরাও। কীভাবে বহিরাগতরা লাঠি নিয়ে অনুষ্টানে ঢুকেছিলেন? কারা তাঁদের সাহায্য করল এবং যদি তাঁরা সভাতেই এসে থাকেন তবে কেন লাঠির মধ্যে পেরেক জাতীয় কিছু লাগিয়ে তাঁরা নিয়ে এসেছিল সেখানে? সেই প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।
প্রতিবাদীরা সোমবার বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্টার হাতে বিক্ষোভে সামিল হন। সেখানেও আরএসএস গো ব্যাক থেকে শুরু করে আরও একাধিক মন্তব্য করা হয় ব্যানারে। অনির্বাণ দত্ত বলেন, ‘এই যে এত বড়ো একটা ঘটনা ঘটেছে। যার জন্য পড়ুয়াদের মনে এফেক্ট পড়েছে। এই যে এতগুলি ছেলে, এদের ট্রমার দায়িত্ব কে নেবে?’ যদিও এখনও পর্যন্ত পরবর্তী কী কর্মসূচি বা প্রতিবাদের ঝাঁঝ কি আরও বাড়বে? তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এই মুহূর্তে কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই জানান তিনি। এবার দেখার এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়।