নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ছোট, ছোট হাতের নরম আঙুলগুলো চেপে ধরে আছে প্ল্যাকার্ড। বাবা,মায়ের সঙ্গে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে স্কুলের দিদিমনির বদলি আটকাতে আন্দোলনে নেমেছে ওরা। আসলে শিক্ষিকা সোমা মাহাত যে ওই বাচ্চা, বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলোর খুব প্রিয়। তাই বদলির খবর শুনেই মন খারাপ হয়ে যায় পড়ুয়াদের। শেষমেশ পড়ুয়াদের সঙ্গে সোমবার মন্টিপা, মোহনপুর সহ একাধিক গ্ৰামের বাসিন্দারাও ঝাড়গ্রামের মোহনপুর আংশিক বুনিয়াদি স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, শিক্ষিকা সোমা মাহাতর বদলির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে লাগাতার আন্দোলন চলবে। এদিকে, জেলা শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, প্রশাসনিক নিয়ম মেনে বদলির নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ঝাড়গ্রাম ব্লকের পাটাশিমুল পঞ্চায়েতের গ্ৰাম মোহনপুর। মন্টিপা, জামবাইদা, মোহনপুর, ন্যাকরাবিধা গ্ৰামের সব ছোট, ছোট ছেলে-মেয়েগুলি এই স্কুলেরই পড়ুয়া। বছর দু’য়েক আগেও স্কুলে মাত্র দু’জন শিক্ষক ছিলেন। পঠন-পাঠন ঠিকভাবে হতো না। কিন্তু বর্তমানে প্রি প্রাইমারি থেকে পঞ্চম শ্রেণির এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক সহ চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়াও অলচিকি ভাষার দুই শিক্ষক পড়ান। সোমা মাহাত গত বছর এই স্কুলে যোগদান করেন। অভিভাবকদের দাবি, সোমাদেবীর হাত ধরেই স্কুলে পঠনপাঠনের ছবি বদলে গিয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের গান, নাচ, ছবি আঁকা ও হাতের কাজ শেখানো শুরু করেন ওই দিদিমনি। সবার কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কিন্তু শনিবার প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষিকার বদলির খবর পান। বদলির খবর পড়ুয়া ও অভিভাবকদের কাছেও পৌঁছায়।
সোমবার সকালে খুদে পড়ুয়ারা স্কুল চত্বরে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রিয় শিক্ষিকার বদলি থামানোর দাবি তুলতে থাকে। অভিভাবকরা ছাড়াও আশপাশের গ্ৰামের বাসিন্দারাও এই বিক্ষোভে শামিল হন। অভিভাবকদের চাপে এদিন পঠন-পাঠন শুরু করা যায়নি। তবে স্কুলে জেলা শিক্ষা দপ্তরের কোনও আধিকারিককে দেখা যায়নি। যা নিয়ে অন্যান্য শিক্ষকরা ক্ষোভপ্রকাশ করেন। প্রধান শিক্ষক বঙ্কিম রানা বলেন, শুক্রবার রাতে শিক্ষা দপ্তর থেকে ওই শিক্ষিকার বদলির মেল পাই। পড়ুয়ারা প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষিকাকে যেতে না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিক। পড়ুয়াদের আবেগের বিষয়টি শিক্ষা দপ্তর বিবেচনা করুক।
এদিকে শিক্ষিকা সোমা মাহাত বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি ছেলে, মেয়েদের নাচ, গান, আবৃত্তি ও ছবি আঁকাও শেখাতাম। একবছরের মাথায় ছেলে,মেয়েগুলো আপন করে নিয়েছিল আমাকে। শনিবার জানতে পারি পাটাশিমুল প্রাথমিক স্কুলে বদলির অর্ডার এসেছে আমার।
এক অভিভাবক ঋষিকেশ মাহাত বলেন, ছেলে, মেয়েদের ভালো স্কুলে পাঠানোর সামর্থ্য নেই। যে দিদিমনির হাত ধরে স্কুলে ভালো পড়াশোনা হচ্ছিল তাঁকেই বদলি করে দেওয়া হয়েছে। এটা মানতে পারছি না। বদলি না আটকালে আমরা লাগাতার আন্দোলন করব। -নিজস্ব চিত্র