


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ব্যস্ত মেট্রো স্টেশনে টিকিট কাউন্টারের সামনে পরপর চাকুর কোপ। আর সেটাও আরপিএফের সামনে। লুটিয়ে পড়ল মনোজিৎ যাদব। বয়স, মাত্র ১৮ বছর। বাগবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। কলা বিভাগের। আর আততায়ী? তারই সহপাঠী। ওই স্কুলের, একই ক্লাসের কমার্সের পড়ুয়া। শুক্রবার দুপুরে ভরা দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে স্কুলছাত্রের হাতে তারই সহপাঠী খুনের এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, গোটা ঘটনাটাই টিকেটিং জোনের বাইরে হয়েছে। পরিষেবা বা যাত্রী সুরক্ষা ব্যাহত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মনোজিতের বাড়ি বরানগরের আলমবাজার এলাকার এস পি ব্যানার্জি রোডে। ঘাতক পড়ুয়া থাকে বরানগর এলাকাতেই। তার নাম রানা সিং। বয়স ১৯। তবে ছুরি চালানোর পর থেকেই সে পলাতক ছিল। রাতে হাওড়া স্টেশন থেকে তাকে পাকড়াও করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকাল ১০টায় সহপাঠীদের সঙ্গেই স্কুলে গিয়েছিল মনোজিৎ। দুপুরে স্কুলের বাইরে কমার্স বিভাগের ওই সহপাঠীর সঙ্গে তার বচসা হয়। তারা শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনে আসে। সঙ্গে তাদের আরও দুই বন্ধু ছিল। সেখানেও দক্ষিণেশ্বরগামী মেট্রো ধরার আগে খৈনি খাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলে। আড়াইটে নাগাদ দক্ষিণেশ্বর পৌঁছে চার ছাত্র মেট্রো স্টেশনের দোতলার গেট দিয়ে বের হয়। সেখানে খাবারের স্টলের সামনেই মনোজিতের সঙ্গে ফের ঝামেলা শুরু হয় যুবকের। বাকি দুই বন্ধু অদূরেই ছিল। আচমকা সে পকেট থেকে চাকু বের করে মনোজিতের বুকের বাঁদিকে কোপাতে শুরু করে। বাকি দুই বন্ধু চিৎকার শুরু করায় ঘাতক ছাত্র চম্পট দেয়। বাড়ি ফেরার জন্য মেট্রোয় বসেই খুড়তুতো ভাই রাহুল যাদব ও কৃশ গুপ্তাকে বাইক নিয়ে স্টেশনে আসতে বলেছিল মনোজিৎ। স্টেশনের নীচে অপেক্ষায় ছিল তারা। চিৎকার শুনেই ছুটে উপরে চলে আসে দুই ভাই। দেখে, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে মনোজিৎ। তারাই পাঁজাকোলা করে নামায় তাকে। বাইকে চাপিয়ে বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মনোজিৎকে মৃত ঘোষণা করেন। ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই বারবার জ্ঞান হারিয়েছেন মা রুণীদেবী। বাবা সুজিতরাম যাদব বলেন, ‘পরীক্ষা দিতে গিয়ে ছেলে কেন খুন হল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, ‘খুনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’