নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসেছিলেন নিক্কোপার্কে। ওয়াটার পার্কে আনন্দ করছিলেন। কিন্তু, তারই মধ্যে আচমকা ঘটে গেল বিপত্তি। নায়াগ্রা ফলসের সিঁড়িতে অসুস্থ হয়ে বসে পড়েছিলেন তিনি। তারপর জ্ঞানও হারান। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয় ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়াকে।
বুধবার দুপুরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম রাহুল দাস। বয়স মাত্র ১৮ বছর ১০ মাস। মানিকতলার মুরারিপুকুর লেনে তাঁদের আদি বাড়ি। বর্তমানে উল্টোডাঙার একটি আবাসনে থাকতেন। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন রাহুল। বাবা ব্যবসায়ী। ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর কারণ ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’? নাকি অন্যকিছু? ময়নাতদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।
রাহুল নিউটাউনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র ছিলেন। চার বন্ধু ও দুই বান্ধবীর সঙ্গে রাহুল নিক্কোপার্কে গিয়েছিলেন। বন্ধুদের একজনের জন্মদিনও ছিল। রাহুলের বাবা সত্যজিৎ দাস বলেন, ‘তদন্ত চেয়ে আমি পুলিসকে লিখিত অভিযোগ জানাব। কারণ, নিক্কোপার্কের গাফিলতি রয়েছে। সেখানে অক্সিজেন সাপোর্ট ছিল না। অ্যাম্বুলেন্সেও অক্সিজেন ছিল না। ওর বন্ধুরা পাম্প করার চেষ্টা করলেও বাধা দেওয়া হয়েছে। ছেলের মুখ নীল হয়ে গিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। কোনও রোগ ছিল না। রোজ দু’ থেকে আড়াই ঘণ্টা জিমও করত। তাই আমরা তদন্ত চাই।’
নিক্কোপার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াটার পার্কে নায়াগ্রা ফলস আছে। সেখানে ‘ওয়াটার ফ্লোর’ পেরিয়ে অনেকে সিঁড়িতে দিয়ে উপরে উঠে। ওই সিঁড়িতেই ছাত্রটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বন্ধুরা তাঁকে নীচে নামালে সঙ্গে সঙ্গে লাইফগার্ডরা দৌড়ে যান। ওই ছাত্রের পালস অত্যন্ত কম ছিল। পার্কের অ্যাম্বুলেন্সে করেই স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আমরা সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েছি।
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, নিক্কোপার্ক থেকে খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছিল। মৃত ছাত্রের বন্ধু ও বান্ধবীদের বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ ঘটতে পারে। তবে, ময়নাতদন্তের পরই সঠিক কারণ জানা যাবে।