Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রেমিকা ব্রেকআপের কথা বলতেই ফেসবুক স্টেটাস দিয়ে আত্মঘাতী ছাত্র

দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্কে আচমকা ছেদ! সেই আঘাত সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হল একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

প্রেমিকা ব্রেকআপের কথা বলতেই  ফেসবুক স্টেটাস দিয়ে আত্মঘাতী ছাত্র
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্কে আচমকা ছেদ! সেই আঘাত সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হল একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতে দেখা যায় তাঁকে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে হাবড়া থানার দক্ষিণ হাবড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম জিৎ দাস (১৭)। দক্ষিণ হাবড়া হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। হাবড়া থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজুর পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, বছর তিনেক আগে জিতের বাবা মারা গিয়েছেন। মা ও ছেলের ছোট্ট সংসার। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করে মায়ের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল তার। বৃহস্পতিবার তার পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে সাইকেল রাখার জন্য মায়ের কাছ থেকে ২০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। ছেলে বেরিয়ে যাওয়ার পর মা পুরসভায় কাজে চলে যান। পরিবার ও বন্ধুদের দাবি, গত দেড় বছর ধরে পড়শি এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল জিৎ। এদিন পরীক্ষা শেষে হাবড়ার বাণীপুর আমবাগান এলাকার একটি ক্যাফেতে দেখা হয় দু’জনের। সেখানেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছের কথা জানায় কিশোরী। তা নিয়ে তাদের মধ্যে বচসা হয়। বন্ধুদের কথায়, ‘ব্রেক আপ’-এর কথা শোনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল জিৎ। বাড়ি ফিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন ‘স্টেটাস’ দেয় সে। প্রেমিকার সঙ্গে রজনীগন্ধার মালা পরা একটি ছবিও পোস্ট করে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের ঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগায় সে। ফেসবুকে ওই ‘স্টেটাস’ নজরে আসতেই এক বন্ধু ছুটে যায় জিতের বাড়িতে। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। স্থানীয়দের সাহায্যে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাবড়া হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 
জিতের বন্ধু শুভ সরকারের দাবি, ‘জিতের প্রেমিকা ব্রেক আপের কথা বলেছিল। সেটা মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু এমন চরম সিদ্ধান্ত নেবে, ভাবতে পারিনি।’ মৃতের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘পুরসভায় কাজ সেরে আমি বোনের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার মধ্যেই সর্বনাশ হয়ে গেল।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ