


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে বন্ধ আছে মিড-ডে মিল। এর কারণ জানতে চাওয়ায় এক পড়ুয়াকে মারধরের অভিযোগ উঠল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এনিয়ে বুধবার উত্তেজনা ছড়ায় দেগঙ্গার চৌরাশি হাইস্কুলে। যদিও প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার ইসলাম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে দেগঙ্গার চৌরাশি হাইস্কুলে মিড ডে মিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এতে প্রধান শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে থানা, বিডিও সহ পঞ্চায়েতে অভিযোগও জানানো হয়। অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করা হয় ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে। মামলাও হয় কোর্টে। এর জেরে অনিয়মিত থেকেছে স্কুলের মিড ডে মিল। গত দু’মাস শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্কুলে আসেননি প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার ইসলাম। ফলে এতদিন বন্ধ ছিল স্কুলের মিড ডে মিল। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন স্কুলের ছাত্রছাত্রী থেকে পড়ুয়ারা।
এরপর এদিন প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসতেই তাঁর কাছে মিড ডে মিল বন্ধ থাকার কারণ জানতে চায় পড়ুয়ারা। অভিযোগ, তখন তাদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষকের মারে এক ছাত্রী জখম হয়েছেন বলেই দাবি পরিবারের। পাশাপাশি এদিন বিদ্যালয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়াদের একাংশ। এক আক্রান্ত ছাত্রী তৌসিনা খাতুন বলেন, প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসায় আমরা জানতে গিয়েছিলাম, কেন মিড ডে মিল আমরা পাচ্ছি না। কিন্তু হেডস্যার আমাকে কাঠের স্কেল দিয়ে মেরেছেন। বুঝতে পারছি না আমার অপরাধ কী। আরেক ছাত্র সুরোজ মণ্ডল বলে, স্কুলে আগের মতো মিড ডে মিল ফের চালু হোক।
এনিয়ে প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি দু’মাস স্কুলে আসেনি। এদিন ছাত্রছাত্রীরা অন্যের শেখানো কথা বলতে এসেছিল। ওরা স্কুলে গণ্ডগোল করছিল। বকাবকি করাতে কেউ পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। মারধর করা হয়নি। এনিয়ে ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, স্কুলে মিড ডে মিল নিয়ে একটা সমস্যা হয়েছে। তবে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক হবে।