Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্ত্রীরোগ বিভাগে লোকবলের অভাব নেই, মূল  কালপ্রিট সপ্তাহে তিনদিনের ‘ডিউটি সমঝোতা’

স্ত্রীরোগ বিভাগে লোকবলের অভাব নেই, মূল  কালপ্রিট সপ্তাহে তিনদিনের ‘ডিউটি সমঝোতা’
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: প্রশিক্ষিত লোকবলের অভাব? ইদানীং স্বাস্থ্যে বড় সড় সমস্যা হলেই এ যুক্তিতে সরকারকে বেঁধেন বিরোধীরা। কখনও তার বাস্তবতাও থাকে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে জেলায় জেলায় স্ত্রীবিভাগের শিক্ষক চিকিৎসকের সংখ্যা। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, খুব নতুন ক’টি মেডিক্যাল কলেজ বাদে, জেলার অধিকাংশ মেডিক্যাল কলেজে সরকারি স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের অভাব নেই। কিছু জায়গায় অনুমোদিত পদের সমান লোকবল আছে। দু-তিনটি ক্ষেত্রে তো অনুমোদিত পদের তুলনায় এগজিসটিং বা বাস্তবের লোকবল বেশি! 
Advertisement
সূত্রের খবর, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজেও ঘটনার রাতে খাতায়কলমে খুব কম ফ্যাকাল্টি বা সিনিয়র চিকিৎসক ছিলেন না। ছিলেন দু’জন স্ত্রীরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও একজন আরএমও। আরও তিনজন গাইনির এসআর এবং একজন অ্যানাসথেসিওলজির এসআর-এরও ডিউটি ছিল। তাহলে? জুনিয়র ডাক্তারনির্ভর সিজার হল কেন? কেন ডিউটিতে থাকলেও হাসপাতালে দেখাই মেলে না সিনিয়রদের বড় অংশকে? বাধ্য হয়ে মাঠে নামতে হয় পিজিটিদের।   
রাজ্যেরই একজন সিনিয়র স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, আসল গলদ অন্যত্র। জেলায় পাঠানো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের বড় অংশই রোজ মেডিক্যাল কলেজেই যান না। হয় বাকি ফ্যাকাল্টিদের সঙ্গে ডিউটি ভাগাভাগি করেন। নয়তো নিজের ইউনিটের ‘অ্যাডমিশন ডে’র (ইন্ডোর, আউটডোরের রোগীসংক্রান্ত সব দায়দায়িত্ব যেদিন) দায়িত্বটুকু সেরেই ক্ষান্ত থাকেন। জেলায় বদলি হওয়া শিক্ষক চিকিৎসকদের অধিকাংশেরই বাড়ি বা ফ্ল্যাট কলকাতায়। সেখানেই স্ত্রী-পুত্র-কন্যার স্কুল, কলেজ, অফিস, নিজের চেম্বার। যখনই জেলায় বদলি করা হয়, তাঁরাও দশকের পর দশক ধরে চলা সমঝোতায় চলে যান। ধরা যাক, কারও অ্যাডমিশন ডে সোমবার। তিনি সোমবার চলে যান জেলার কর্মস্থলে। পরদিন অর্থাৎ পোস্ট অপের দিন থাকেন। থাকেন তারপরের অর্থাৎ সার্জারির দিন। অর্থাৎ সপ্তাহে তিনদিন থেকে চতুর্থ দিন সকালেই রওনা দেন কলকাতার দিকে। অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবন সব জানলেও সিস্টেমের মধ্যে একটি সমান্তরাল সিস্টেম চলতেই থাকে। 
কেন এই সিস্টেম চলে? এক সিনিয়র শিক্ষক চিকিৎসক বলেন, তার পিছনেও রয়েছে স্বাস্থ্যভবনের অপদার্থতা। মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যদপ্তরে সুষ্ঠু বদলি-পদোন্নতি নীতির ঘোষণা করলেও তার প্রয়োগই করছেন না স্বাস্থ্যকর্তারা। প্রভাব খাটিয়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কলকাতার ৫ মেডিক্যালে কাটাচ্ছেন বহু শিক্ষক চিকিৎসক। অন্যদিকে, জীবনভর জেলায় থাকতে হচ্ছে অনেককে। তাঁরা যদি জানতেন তিন বা চার বছর পর ফের কলকাতা বা নিকটবর্তী জেলায় ফিরবেন, সেভাবেই নিজের ও পরিবারের সেট আপ করে নিতেন। আবার ক্ষোভে অনেকে জেলাকেই ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলেন। নার্সিংহোম করে ফেলেন। তাঁরা আবার জেলা থেকে নড়তেই চান না! তাঁদের বেশি দেখা মেলে স্থানীয় নার্সিংহোমে। এজন্য জেলায় প্রচুর সরকারি ডাক্তার আসলে থেকেও নেই! স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ