Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬

স্ত্রীর সঙ্গে সেলফি! ছোট্ট ভুলই চিনিয়ে দিল মাওবাদী নেতা চলপতিকে

স্ত্রীর সঙ্গে সেলফি! ছোট্ট ভুলই চিনিয়ে দিল মাওবাদী নেতা চলপতিকে
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ভুবনেশ্বর: গতিবিধিতে রাখতে হবে চূড়ান্ত গোপনীয়তা। কাকপক্ষী বোঝার আগেই পার হতে হবে নদী, বন-জঙ্গল। গ্রামে গ্রামে ঘোরার সময়ও কেউ যেন চিনতে না পারে! মাওবাদী স্কোয়াডের সদস্যদের কাছে নির্দেশ থাকে এমনই। আর সেজন্য তাদের দেওয়া হয় রীতিমতো জঙ্গি প্রশিক্ষণ। চূড়ান্ত গোপনীয়তার এই শর্ত লঙ্ঘন করেছিলেন মাওবাদী শীর্ষনেতা রামচন্দ্র রেড্ডি ওরফে চলপতি, যার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। তুলেছিলেন পত্নীর সঙ্গে একটি সেলফি। ছোট্ট ভুল! কিন্তু সেটাই চিনিয়ে দিল দীর্ঘ তিন দশক আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে নাশকতা চালানো চলপতিকে। পুলিসের কাছে ছিল না তাঁর কোনও ছবি। ২০১৬ সালে মাওবাদী দমন অভিযানে উদ্ধার হয়েছিল একটি স্মার্টফোন। সেটিতে বন্দি থাকা সেই সেলফিই হয়ে ওঠে মাওবাদীদের এই কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্যকে চেনানোর সূত্র। মঙ্গলবার ওড়িশা-ছত্তিশগড় সীমান্তে অপারেশন চালিয়ে ২০ জন মাওবাদীকে নিকেশ করে নিরাপত্তা বাহিনী। মৃতদের মুখ খুঁটিয়ে দেখতে গিয়েই লাফিয়ে ওঠেন বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা— ‘এ তো চলপতি!’
Advertisement
২০১১ সালে কন্ধমাল জেলায় পুলিসের অস্ত্র লুটের সূত্রেই মাওবাদী এই শীর্ষ নেতা প্রথম প্রশাসনের নজরে আসেন। তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে পুলিস। কিন্তু জঙ্গলে গাঢাকা দেন তিনি। সঙ্গে থাকত ১০-১২ জনের সশস্ত্র স্কোয়াড। সে সময়ই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় মাওবাদীদের অন্ধ্র-ওড়িশা বর্ডার স্পেশাল জোনাল কমিটির ডেপুটি কমান্ডার অরুণা ওরফে চৈতন্য ভেঙ্কট রবির। দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তারপর বিয়ে। ২০১৬ সালের মে মাসে অন্ধ্রপ্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের গুলি লড়াই শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় একটি পরিত্যক্ত স্মার্টফোন। সেই স্মার্টফোন থেকেই মেলে স্ত্রী অরুণার সঙ্গে চলপতির একটি সেলফি। সেই ছবিই তাঁকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে। ছবি পাওয়ার পর তাঁকে খোঁজার কাজ আরও সহজ হয়ে যায়। কিন্তু তাতেও প্রবীণ এই মাওবাদী নেতাকে নিকেশ করতে বাহিনীর সময় লাগল প্রায় সাড়ে আট বছর!
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ