


বেজিং, ১৮ মে: ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে ভূমিকম্পের জেরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায় গুয়াংসি অঞ্চলে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বাড়ির একাংশ। হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত দু’জনের মৃত্যুরও হয়েছে বলে খবর। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.২।
চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল গুয়াংসির লিউঝৌ শহরের কাছে। প্রবল কম্পনে অন্তত ১৩টি বাড়ি ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচেও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধারকারী দল জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে। দু’জনের মৃত্যুর পাশাপাশি নিখোঁজ একজন। চারজন আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। প্রায় ৭ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কম্পনের জেরে রেল পরিষেবাতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর রেললাইন ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোর নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন চলছে। এর জেরে কিছু অঞ্চলে ট্রেন চলাচল ও পরিবহন পরিষেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিষেবাগুলি এখনও স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। যদিও বিদ্যুৎ, জল, গ্যাস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি চীনা প্রশাসনের। চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বরাবরই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতেও একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সাক্ষী থেকেছে এই অঞ্চল। ফলে নতুন এই ভূমিকম্পে ফের উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।