Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একমাসেরও বেশি সময় সিসিইউতে, মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে ফিরলেন স্ট্রোক রোগী

কালিম্পংয়ের ভবানীশংকর বাসনেট এক মাস সিসিইউতে কাটিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন। চিকিৎসার সাফল্য ও টিমের উদ্যমের গল্প। বিস্তারিত পড়ুন।

একমাসেরও বেশি সময় সিসিইউতে, মৃত্যুর দোরগোড়া থেকে ফিরলেন স্ট্রোক রোগী
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা; কামাল করল কালিম্পং। কালিম্পং জেলা হাসপাতালের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রায় মৃত্যুর হাত থেকে এক বৃদ্ধকে বাঁচিয়ে ফেরালেন স্বাভাবিক জীবনে। কালিম্পংয়ের বাসিন্দা ভবানীশংকর বাসনেট। বয়স ৬৪ বছর। গত মার্চ মাসে তিনি হেমারেজিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মস্তিষ্কে প্রবল রক্তক্ষরণ হয়। তাঁকে প্রথমে কালিম্পং জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, সেখানে নিউরোলজিস্ট না থাকায় রেফার করা হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। সেখানে না নিয়ে গিয়ে বাড়ির লোকজন ভরতি করেন শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালে। সেদিন ছিল ২৯ মার্চ। সেখানে নিউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু হয়। ক্রেনিওটমি করে (মাথার খুলির অংশবিশেষ ওপেন করে) জমে থাকা রক্ত বের করে আনা হয়। তাতেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। উলটে সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত হন। সঙ্গে ছিল নিউমোনিয়া, সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্যের অভাব, হার্ট ব্লকের মতো সমস্যা। তীব্র শ্বাসকষ্ট থাকায় তাঁর ট্র্যাকিওস্টমিও করা হয়েছিল। এত সমস্যার কারণে জীবন ঝুলছিল সরু সুতোয়। এমন পরিস্থিতিতে ১৮ এপ্রিল তাঁকে ফের কালিম্পং জেলা হাসপাতালের হাইব্রিড সিসিইউতে ভরতি করা হয়। শুরু হয় যমে-মানুষে লড়াই। একমাসেরও বেশি সময় সিসিইউতে যথাযথ চিকিৎসায় ধাপে ধাপে উন্নতি হতে থাকে তাঁর। কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে প্রাণঘাতী সংক্রমণও কমে। ধীরে ধীরে ট্র্যাকিওস্টমির টিউব ছাড়া শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে থাকেন তিনি। এমনকি, সঠিক চিকিৎসায় ট্র্যাকিওস্টমির দাগগুলিও মুছে যায়। সকলকে চমকে দিয়ে ২৯ মে ভবানীবাবু ছুটি পান। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। কালিম্পং জেলা হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট সূত্রের খবর, প্রশিক্ষিত এবং উদ্যমী টিম থাকায় এই অসম্ভবকে সম্ভব করা গিয়েছে। এর ফলে টিমের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ