নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদের অন্দর হোক বা চত্বর, বাংলার তৃণমূল সাংসদরা যাতে ডিম ছোড়ার মতো কোনো অপ্রস্তুতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন না হন, তার জন্য সংসদের নিরাপত্তা বাড়ছে। সোমবার ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। অধিবেশনে যোগ দিতে আসবেন তৃণমূলের সাংসদরা। কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভোটের পর বিজেপি জমানায় তৃণমূলীদের ওপর যেভাবে ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ হচ্ছে, তাতে অস্বস্তিতে জোড়াফুল শিবির। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন সৌগত রায়ও।
তাই এবার সংসদে ভিজিটরদের প্রবেশ, সংসদ চত্বরে গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। কোন সাংসদের ভিজিটর, তা প্রবেশপত্রে উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি লেখা থাকবে কার্ড হোল্ডাররা লোকসভা বা রাজ্যসভার কোনো কর্মী নন। আধার কার্ডের নম্বর দিয়েই তৈরি হবে ভিজিটর পাস। ছবি সহ থাকবে কিউ আর কোড। বেঁধে দেওয়া হবে সংসদে থাকার সময়সীমা। সময় শেষে বাইরে বেরনোর সময় জমা করতে হবে পাস। কোন ভিজিটর হাতে বা পকেটে কী নিয়ে ঢুকছেন, তার উপর চলবে নজরদারি। মেটাল ডিটেকটরের দরজা পেরিয়ে যেতে তো হবেই, তারপরও সাদা পোশাকে থাকা সংসদের নিরাপত্তা কর্মী নজর করবেন। সংসদ সচিবালয় থেকে সাংসদদের অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে যেসব ভিজিটর আসবেন, তাঁরা যেন মেটাল ডিটেকটর ডোর ফ্রেমের মধ্যে দিয়েই পার হন। এমনকি প্রাক্তন সাংসদদেরও এমনটা করতে হবে। স্রেফ ছাড় বর্তমান সাংসদদের। ভিজিটরদের প্রত্যেকের ব্যাগ স্ক্যানারে পরীক্ষা হবে। আলপিন থাকলেও নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। স্রেফ কাগজপত্র এবং মানিব্যাগ।
সাংসদদের ব্যক্তিগত সচিব বা আপ্তসহায়ক এবং গাড়ির চালকদের পাস দেওয়ার ক্ষেত্রেও পুলিশ ভেরিফিকেশনে কড়াকড়ি করা হয়েছে। এমনকি প্রয়োজন মনে করলে সাংসদের ব্রিফকেস এবং গাড়ি চেক করা হবে। যেসব সাংসদ নিজেই গাড়ি চালিয়ে সংসদে আসেন, প্রয়োজনে তাঁদের গাড়ির বনেট, ডিকি, সিট পরীক্ষা করা হতে পারে বলেও জানিয়ে দিয়েছে লোকসভা সচিবালয়। সংসদ চত্বরে কোনো অপ্রস্তুতকর ঘটনা রুখতেই সাংসদের এ ব্যাপারে নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তা করার অনুরোধ করা হয়েছে।



