নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: খড়দহে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া খেপলির বিলের একাংশ ভরাটের খবরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এ নিয়ে হইচই শুরু হতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। ওই ভরাটের কাজ বন্ধ করতে নোটিস দেওয়া হয়েছে। জমির রেকর্ডে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদেরও শো-কজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, তাঁদের মধ্যে একজনের ঠিকানা পাওয়া গিয়েছে। বাকিদের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জমিদাতাদের খোঁজ নেওয়া হতে পারে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, খেপলির বিলের মতো জলাশয় ভরাটের সাহস যারা দেখিয়েছে, সেই সব প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে পুলিস ও প্রশাসন আদৌ পদক্ষেপ নেবে তো! প্রশাসনের তরফে অবশ্য কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়দহ ও পানিহাটির সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ১৯ একর জায়গা নিয়ে রয়েছে ‘খেপলির বিল’। প্রকৃতির ভারসাম্য ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষার পাশাপাশি এই বিলকে কেন্দ্র করে অনেক মৎস্যজীবী জীবিকা নির্বাহ করেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিলের অবস্থান কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া। এই বিলের মজে যাওয়া অংশে জমি হাঙরদের নজর রয়েছে। সম্প্রতি সদরহাট এলাকায় মাটি ফেলে জলাশয়ের একাংশ ভরাটের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। কিছু অংশে আবার ইট দিয়ে সীমানা প্রাচীরও দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ায় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বারাকপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও সরবার আলির নির্দেশে বিএলআরও অফিসের আধিকারিকরা ভরাট হওয়া অংশ সরেজমিনে দেখে এসেছেন। কেএমডিএর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বারাকপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর রাজবংশীকে ফোন করে বিস্তারিত তথ্য নিয়েছেন। কেএমডিএর তরফে জমি হাঙরদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিডিও বলেন, জমির রেকর্ডে যাঁদের নামে আছে, তাঁদের ঠিকানা খুঁজে শো-কজের নোটিস ধরানোর জন্য আমরা স্থানীয় রহড়া থানার সাহায্য চেয়েছি। জলাজমি ভরাট কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর রাজবংশী বলেন, কোনও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।