নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এসআইআরে কাজ না করা নেতানেত্রীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিল বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। এসআইআর চলাকালীন নিষ্ক্রিয় থাকা দলীয় পদাধিকারীদের রেয়াত করা হবে না বলে বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন। সম্প্রতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলাস্তরের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বৈঠকে ‘ফাঁকিবাজ’ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে অভিষেক জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরই অরূপবাবু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসআইআরের মতো কঠিন সময়েও অঞ্চল সভাপতিদের একাংশ নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তালাডাংরা ও মেজিয়া ব্লকে আমরা কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি। তাঁরা দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াননি। দল ওইসব নেতার ফাঁকিবাজি বরদাস্ত করবে না। অভিষেকবাবুর নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরের কারণে বিপাকে পড়া ভোটারদের সাহায্য করার জন্য নিজ নিজ এলাকায় দলের সাংসদ, বিধায়কদের ভোটরক্ষা শিবির বা ‘ওয়ার রুম’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধিদের ভাতার টাকায় মানুষের স্বার্থে ওই শিবির চালাতে হবে বলে তিনি নির্দেশ দেন। তারপরই বাঁকুড়ার তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টি পর্যালোচনা করে। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় জেলার ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। তারমধ্যে রাইপুর ও রানিবাঁধে ভোট রক্ষা শিবিরের কাজ ঠিকমতো চলছিল না বলে তৃণমূল নেতৃত্ব স্বীকার করেছে।
অরূপবাবু বলেন, রাইপুরে দলের জেলা নেতা রাজকুমার সিংহকে ভোট রক্ষা শিবির চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে দ্রুত তা চালু হয়ে যাবে। সাধারণ ভোটারদের পাশে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ছিলেন। শিবির চালুর ফলে এক জায়গায় গিয়ে ভুক্তভোগী ভোটাররা সাহায্য পাবেন। রানিবাঁধ বিধানসভা রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডির কেন্দ্র। সেখানে শিবির চালু করার জন্য মন্ত্রীকে বলা হয়েছে। প্রায়োজনে আমিই সেখানে শিবির চালুর ব্যবস্থা করব।
এনিয়ে মন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডিকে মঙ্গলবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। শিবির চালুর ব্যাপারে জানতে চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা হলেও এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
তালডাংরার তৃণমূলের এক অঞ্চল সভাপতি বলেন, এসআইআর নিয়ে বুথ সভাপতিরা সক্রিয় ছিলেন। আমরা তাঁদের মধ্যে সমন্বয় রাখার কাজ করছিলাম। ফলে ময়দানে ততটা দেখা যায়নি। তবে এবার থেকে সরাসরি দলীয় শিবিরে গিয়ে ভোটারদের সাহায্য করব। শুনানিতে ডাক পাওয়া কোনও ভোটারের নথি জোগাড় করতে সমস্যা হচ্ছে কি না তাও খোঁজ রাখছি। দলের নির্দেশমতোই আমরা কাজ করব।
এদিকে মঙ্গলবার বাঁকুড়া-১ ব্লক কার্যালয়ে তৃণমূলের বিএলএ-২ দের এসআইআরের শুনানি চলাকালীন ভিতরে ঢুকতে দেওয়ার দাবিতে বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদার সহ কয়েকজন কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। পরে প্রশাসন বিএলএ-২ দের শুনানিকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।