সংবাদদাতা, ডোমকল: প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচি ঘিরে আলোর উৎসবে সেজে উঠেছিল ডোমকলের মহকুমা শাসকের অফিস সহ নানা সরকারি দপ্তর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর পাশাপাশি বাহারি আলোয় ওই সমস্ত সরকারি অফিস আলোকিত করে তোলা হয়। অথচ সেসময় শহরের একাধিক এলাকা ডুবে ছিল অন্ধকারে। দীর্ঘদিন ধরে ডোমকল শহরের বিভিন্ন এলাকায় পথবাতি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে সন্ধে হলেই ওই সমস্ত এলাকার রাস্তাঘাট অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। ডোমকলের বাসিন্দারা তাড়াতাড়ি ওই সমস্ত পথবাতি সারানোর দাবি তুলেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
পুরসভা গঠনের আগে পঞ্চায়েতের তরফে ডোমকলের বিভিন্ন প্রান্তে ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ বসানো হয়েছিল। পুরসভা হওয়ার পর নতুন করে পথবাতি বসানো হয়। কয়েকবছর পর আবার সেগুলি বদলে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন পথবাতি বসানো হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে পথবাতি বিকল হওয়া, বাল্ব চুরি যাওয়ার কারণে ওই সমস্ত পথবাতি অকেজো হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও রাস্তা সম্প্রসারণের সময়ে বাতিস্তম্ভ উপড়ে ফেলা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরসভার নিয়মিত দেখভালের অভাবেই একে একে বিভিন্ন এলাকায় আলোর ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। গতবছর ও চলতি বছরেও দফায় দফায় বেশ কিছু পথবাতি সারানো হয়েছিল। কিন্তু এখন শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পথবাতি বিকল হয়ে পড়ে আছে।
ডোমকল হাসপাতাল মোড় থেকে ব্রিজ মোড় পর্যন্ত রাস্তায় একাধিক বাতি জ্বলছে না। পুরনো বিডিও অফিস মোড় থেকে কুঠির মোড় পর্যন্ত রাস্তাতেও একই ছবি দেখা যায়। ভাতসালা যাওয়ার রাস্তায় কয়েকটি বাতি জ্বলছে, বাকিগুলি নিভে রয়েছে। কোথাও কোথাও আলো জ্বলছে নিভছে।
এই পরিস্থিতিতে রাতে চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন শহরবাসী। অন্ধকারে গাড়ি যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাড়াতাড়ি পথবাতি মেরামতের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ শাহনুর আলম বলেন, শহরের বহু পথবাতি এখনও জ্বলে না। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলছে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সরকারি অফিস যখন আলোকিত, তখনও শহরের একাধিক রাস্তা অন্ধকারে ছিল। সমস্ত পথবাতি মেরামত করে আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।