সংবাদদাতা, কান্দি: কখনও হাসপাতালে ঢোকার মুখ ঘিরে রাখছে। আবার কখনও রোগীর পরিবারের খাবার টেনে খাচ্ছে। প্রায় তিনবছর ধরে এমনই উৎপাত করে চলেছে অন্তত দেড় ডজন বেওয়ারিশ ঘোড়া। সালার গ্রামীণ হাসপাতালের এমন ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মীরাও সমস্যায় পড়েছেন। ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে চিঠি করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিনবছর আগে ওই হাসপাতাল চত্বরে দুটি অসুস্থ ঘোড়াকে প্রথম দেখা গিয়েছিল। তবে তাতে তেমন সমস্যা হয়নি। বরং স্থানীয়রা ওই ঘোড়া দুটিকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে এক এক করে ঘোড়ার সংখ্যা বাড়তেই থাকে। সম্প্রতি ওই এলাকায় মালিকহীন ঘোড়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় ডজন। শুধু হাসপাতাল চত্বর বলে নয়। সালার ত্রিদিব চৌধুরী বাস টার্মিনাস, সালার রেল স্টেশন চত্বরে বেওয়ারিশ ঘোড়ার উৎপাত লেগেই রয়েছে। বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘোড়াগুলির মালিকের কোনো খোঁজ নেই। কে কিভাবে ঘোড়াগুলিকে ছেড়ে যাচ্ছে তাও বোঝা যাচ্ছে না। তবে ঘোড়াগুলির কর্মক্ষমতা নেই। কোনোটির বয়স বেশি, আবার কোনটি অসুস্থ।
এদিকে ঘোড়ার উৎপাতে প্রায় তিনবছর ধরে নাজেহাল অবস্থা ওই হাসপাতালের। হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘোড়াগুলি কখনও হাসপাতাল ঢোকার গেট ঘিরে রাখছে। আবার কখনও রোগীর পরিবারের খাবার টেনে নিয়ে খেয়ে ফেলছে। কখনও আবার হাসপাতালের এর্মাজেন্সি বিভাগের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পড়ছে। ফলে স্বাস্থ্য কর্মীদের স্ট্রেচার নিয়ে যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আবার অ্যাম্বুলেন্স চালকদেরও সর্তক হয়ে রোগীকে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যেতে হচ্ছে। কখনও সখনও হাসপাতাল ঢোকার গেটের সামনেই মলত্যাগ করায় সেখানে টেকা দায় হয়ে পড়ছে। অভিযোগ, কার্যত গোটা হাসপাতাল চত্বরেই ঘোড়ার উপদ্রব লেগে রয়েছে। ওই হাসপাতালে আসা রোগীর আত্মীয় শাহানুর শেখ বলেন, স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় আমি বাইরের বারান্দায় ঝোলা নিয়ে বসেছিলাম। একটু অন্যমনস্ক হয়েছিলাম। সেই ফাঁকে ঝোলা থেকে খাবারের ক্যারিব্যাগ টেনে নিয়ে চলে যায় দুটি ঘোড়া। প্রায় একই দাবি সেখানকার অন্যান্য রোগীর পরিবারের।
স্থানীয় ভরতপুর ২ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ইন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, প্রায় তিনবছর ধরে এভাবেই বেওয়ারিশ ঘোড়ার উপদ্রব লেগে রয়েছে। সমস্যার কথা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও বনবিভাগেও চিঠি করা হয়েছিল। ঘোড়ার উৎপাতে রোগীর পরিবার থেকে স্বাস্থ্য কর্মীরাও সমস্যায় রয়েছেন। প্রায়দিন ঘোড়াগুলিকে বের করে দেওয়া হলেও কিছুক্ষনের মধ্যে ফের উৎপাত শুরু হয়ে যায়।
সালার গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে বেওয়ারিশ ঘোড়া। -নিজস্ব চিত্র