


নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট: পথকুকুর সংক্রান্ত মামলায় পুরনিগম ও সরকারি আধিকারিকদের উপর তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। আজ, বৃহস্পতিবার ওই মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত বলে, ‘সংসদে নির্দিষ্ট আইন রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কেউ লাগুই করেনি। স্থানীয় আধিকারিক কিংবা পুরসভা কিছুই করছে না। দায়িত্ব তাঁদেরই নিতে হবে।’ দিল্লিতে জলাতঙ্ক সংক্রান্ত উদ্বেগ ও পথকুকুরদের কামড়ানোর ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রথমে মামলাটি ছিল শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে। গত সোমবার সেই মামলার শুনানিতে দুই বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, দিল্লির লোকালয় থেকে পথকুকুরদের অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে হবে। পথকুকুরদের জন্য নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতেও বলা হয়। এই কাজ করার সময়ে কোনও আপস করা যাবে না, কোনও সংগঠন বাধা দিলে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশের পরই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। সাধারণ মানুষ থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা তীব্র সমালোচনা করেন। তারপরেই তড়িঘড়ি গতকাল, বুধবার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। পথকুকুর সংক্রান্ত মামলাটি শুনানির জন্য পাঠানো হয় সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চে। আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল বলেন, ‘গণতন্ত্রে এক পক্ষ সরব থাকে, অন্য পক্ষ চুপচাপ সহ্য করে। আমরা এমন ভিডিয়ো দেখেছি যেখানে অনেকে মুরগির ডিম বা মাংস খেয়ে নিজেদের পশুপ্রেমী বলে দাবি করেন। পথকুকুরদের মেরে ফেলার কথা তো কেউ বলছে না। আমরা কেউই পশুবিদ্বেষী নই। তবে তাদের আলাদা করে রাখতে হবে। গত একবছরে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৩৭ লক্ষ।’ তাই কেন্দ্রের যুক্তি পথকুকুরদের আলাদা করে খাঁচায় বা অন্যত্র রাখা হোক। এর প্রেক্ষিতেই পশুপ্রেমী সংগঠনের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিবল।
তিনি বলেন, ‘লোকালয় থেকে পথকুকুরদের ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে সরানোর কথা বলা হচ্ছে। যদি রাজধানী দিল্লিতে এমন আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি থাকত, তা হলে কোনও সমস্যা হত না। কিন্তু এমন কোনও আশ্রয়কেন্দ্রই নেই রাজধানী দিল্লিতে। সে ক্ষেত্রে পথকুকুরদের ধরে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, মৃত্যু মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে না তো?’। তারপরেই পুরসভা ও সরকারি আধিকারিকদের উপর ক্ষোভপ্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। পশুপ্রেমীদের তরফে মামলাকারীর আইনজীবী গত সোমবারের নির্দেশ খারিজ বা স্থগিতের আর্জি জানান। যদিও তা নিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার কোনও পদক্ষেপ করেনি শীর্ষ আদালত। এদিন সবপক্ষের বক্তব্য শুনে রায়দান স্থগিত রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ।