নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত সরকারের প্রতিটি সামাজিক প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া হবে—ক্ষমতায় এসে রাজ্যবাসীকে কথা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেইমতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বদলে অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণাও করেছে বিজেপি সরকার। কিন্তু, বুধবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্নের ঝড় উঠেছে। কোন শর্তে মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনা? এর উত্তর খুঁজতে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে প্রায় ১২ পাতার পারিবারিক তথ্য চেয়েছে রাজ্য, যা প্রান্তিক মানুষের পক্ষে পূরণ করা চ্যালেঞ্জের। এর জেরে বাংলার মা-বোনেদের চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, সুকৌশলে উপভোক্তার সংখ্যা কমিয়ে ফেলতেই কি এই পন্থা অবলম্বন?
পূর্বতন সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২ কোটি ৬১ লক্ষে। কিন্তু, বুধবার রাজ্য জানিয়েছে এই প্রকল্পের উপভোক্তা ছিল ২ কোটি ২০ লক্ষ। তার থেকে আরও ৩০ লক্ষ উপভোক্তা বাদ পড়তে চলেছেন। এই তালিকায় ভুয়ো গ্রাহকের পাশাপাশি রয়েছে এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মহিলারাও। সবচেয়ে বড়ো কথা, নতুন আবেদনকারী তো বটেই, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদেরও এই ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হবে। যা তাঁরা পাবেন নিকটবর্তী পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং ব্লক অফিসে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের ফের লাইনে দাঁড়াতে হবে কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের সমাজ কল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ‘শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম, উপভোক্তা তালিকা একেবারে নির্ভুল রয়েছে। কিন্তু দেখা গেল, অনুপ্রবেশকারীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। ফলে আমাদের আবার যাচাইয়ের পথে হাঁটতেই হল।’ সে ক্ষেত্রে রাজ্যের মা-বোনদের তাঁর অনুরোধ, ‘আপনারা অসত্য কথা লিখবেন না। তাহলে আপনারাই চিহ্নিত হয়ে যাবেন। কারণ এই তথ্যের উপরই যাচাই প্রক্রিয়া চলবে।’
পরিবারের সকল সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, প্রত্যেকের স্বাস্থ্যবিমার অঙ্ক, কে কোথায় চাকরি বা পড়াশোনা করে, গাড়ি আছে কি না, মালিকানাধীন জমির মাপ মিলিয়ে প্রায় ৩০টি প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রে। এই প্রেক্ষাপটে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে আম জনতা। শিশুরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় টিকা পাচ্ছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। এই আবেদনপত্র নিয়ে হতাশার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। আবার পরিবার বলতে রাজ্যের তরফে ব্যাখ্যা হল, ‘এমন একদল ব্যক্তি, যাঁরা সাধারণত একসঙ্গে বসবাস করেন এবং একই রান্নাঘর থেকে খাবার গ্রহণ করেন।’ এই বিষয়টি বুঝতেও অনেককে সরকারি আধিকারিকদের কাছে ছুটতে দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, ‘ফর্মে গোটা পরিবারের যা যা তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা কতটা জরুরি? এত শর্ত কেন? ফর্ম পূরণ করলেই সবাই টাকা পাবে তো?’



