Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা, ২-৩ দিনের মধ্যেই রাজ্যের কিছু অংশে বর্ষার প্রবেশ

কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা। আগামী ২-৩ দিনে রাজ্যের কিছু অংশে বর্ষা প্রবেশ করবে। বিস্তারিত পড়ুন।

জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা, ২-৩ দিনের মধ্যেই রাজ্যের কিছু অংশে বর্ষার প্রবেশ
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার দুপুর থেকে কলকাতা ও লাগোয়া বিভিন্ন এলাকাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শক্তিশালী বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়ে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসে বিকেল পৌনে ৫টা নাগাদ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি বেগে কালবৈশাখী ঝড় রেকর্ড হয়। কলকাতায় এবং একাধিক জেলার অনেক জায়গায় ‘লাল’ সতর্কতা জারি করে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, মেঘের নিজস্ব উচ্চতা ১২-১৩ কিমি ছিল। বর্ষা আসার আগের সময়ে ভূপৃষ্ঠ থেকে কম উচ্চতায় অবস্থানকারী শক্তিশালী বজ্রমেঘ সৃষ্টির প্রবণতা বাড়ে। আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শক্তিশালী বজ্রমেঘ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় আগাম ‘কমলা’ ও ‘হলুদ’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এদিকে উত্তরবঙ্গের উপর মৌসুমি বায়ুর নতুন করে কোনো অগ্রগতি না-হলেও আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে রাজ্যের আরো কিছু অংশে বর্ষা প্রবেশ করবে বলে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। একইসঙ্গে বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের কিছু অংশে এই সময়ে বর্ষা ঢুকে পড়বে। 

Advertisement

পাঞ্জাব থেকে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর আছে। বিহারের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত আছে। তার জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে শক্তিশালী বজ্রমেঘ তৈরি করছে। বুধবার দুপুর নাগাদ প্রথমে মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, হুগলি জেলার কিছু অংশে ঝড়বৃষ্টির ‘লাল’ সতর্কতা দেয় আবহাওয়া দপ্তর। তারপর পর্যায়ক্রমে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনার পাশাপাশি কলকাতার কিছু অংশে ‘লাল’ সতর্কতা দেওয়া হয়। কালকাতা ও লাগোয়া কিছু এলাকায় আকাশ কালো মেঘে ঢেকে প্রায় অন্ধকার হয়ে যায় বিকালেই। আলিপুরে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ২৪.২ মিমি, দমদমে ৩২ মিমি এবং সল্টলেকে ২৯ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এইসময়ে দক্ষিণবঙ্গে সবচেয়ে বেশি ৫৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে বারাকপুরে। উলুবেড়িয়ায় ৩০ মিমি, কৃষ্ণনগরে ২৩ মিমি এবং ডায়মন্ডহারবারে ২২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাতের আগে পর্যন্ত বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় কলকাতা ও বিভিন্ন জায়গায় ভ্যাপসা গরমে জেরবার হতে হয়। ঝাড়বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি মেলে। কলকাতায় এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৭ ডিগ্রি বেশি। ভোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (২৯.৬) স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৪ ডিগ্রি বেশি ছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, আলিপুরদয়ার ও কোচবিহার জেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। লিস নদী এলাকায় সর্বাধিক প্রায় ১২৭ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। ৬৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে আলিপুরদুয়ারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ