Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্যবসায়ী খুনের জেরে থমথমে রামপুরহাটে বন্ধ পাথর শিল্পাঞ্চল

ব্যবসায়ী খুনের জেরে থমথমে রামপুরহাটে বন্ধ পাথর শিল্পাঞ্চল
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শ্যুটআউটের ঘটনার একদিন পরও আতঙ্ক কাটছে না। থমথমে রামপুরহাটের পাথর শিল্পাঞ্চল। সোমবার সমস্ত ক্র্যাশার, খাদান বন্ধ থাকল। যদিও ব্যবসায়ীদের পক্ষে জানানো হচ্ছে, তাঁরা শোক পালনের উদ্দেশ্যে সবকিছু বন্ধ রেখেছেন। রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে তদন্তে আসেন জেলার পুলিস সুপার সহ পদস্থ আধিকারিকরা। লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের দিকেও বেশ কিছুটা ঘুরে দেখেন তাঁরা। যদিও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে পুলিস সূত্রের দাবি, শুধুমাত্র ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই খুন নয়। এর পিছনে অন্য কারণ রয়েছে। খুবই শীঘ্রই দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে খুনের কিনারা করা হবে। এদিকে এলাকাজুড়ে আগ্নেয়াস্ত্রের বাড়বাড়ন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

Advertisement

রবিবার রামপুরহাটের নিরিষা গ্রামের পেট্রল পাম্প লাগোয়া চায়ের দোকানে সশ্রস্ত্র দুষ্কৃতী দল হানা দেয়। সেখানে কয়েকজন পাথর ব্যবসায়ী হপ্তার পেমেন্ট দিচ্ছিলেন। দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। গুলিতে সুদীপ বাস্কি নামে এক পাথর ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই খুন বলে মনে হলেও পুলিস এবং ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছে, এই খুনের পিছনে অন্য কারণ থাকতে পারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুপুর ১টা থেকে দেড়টার দিকে আরও বেশি টাকা লেনদেন হয়। কিন্তু বেলা ১১টা নাগাদ হামলা হয়। সুদীপ ছিনতাইয়ে বাধা দিলে হাতে অথবা পায়ে গুলি করে চলে যেতে পারত তারা। যেভাবে তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করা হয়েছে তা তাঁর প্রতি চরম শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ। 
ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছে, আগে টাকাপয়সা লেনদের সংক্রান্ত বিষয়ে সুদীপের সঙ্গে কারও বচসা হয়েছিল। তার জের হতে পারে। রবিবারই পাথর ব্যবসায়ী মুন্না শেখ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে ছিলেন, গ্রামের কয়েকজন তাঁকে মারার হুমকি দিত। এদিন দুপুরে গ্রামেই সুদীপের মৃতদেহ কবরস্থ করা হয়। লেনদেন সংক্রান্ত ব্যক্তিগত শুক্রতা থেকে এই খুন বলে মনে করছেন সুদীপের ঘনিষ্ঠরাও। পুলিস সূত্রেরও দাবি, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নয়, এই খুনের পিছনে অন্য কারণ রয়েছে। তবে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের আগে তা খোলসা করতে চাইছে না পুলিস। সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে আগ্নেয়াস্ত্রের বাড়বাড়ন্ত নিয়েও এলাকার বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন। সূত্রের দাবি, মুঙ্গেরের কারিগররা ঝাড়খণ্ডে বসে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করছে। সীমানা পেরিয়ে তা সহজেই চলে আসে লাগোয়া বীরভূমে। তাতে আগ্নেয়াস্ত্র সহজলভ্য হয়ে পড়ায় বীরভূমে বারবার শ্যুটআউটের ঘটনা ঘটেছে। আগে বিহারের মুঙ্গের থেকে বাংলায় অস্ত্র আমদানি চলত। এখন মুঙ্গেরের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন কামারশালায় তৈরি হচ্ছে পাইপগান। শুধু ঝাড়খণ্ডে নয়, গত বছর সেপ্টেম্বরে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া রামপুরহাটের সুরিচুঁয়া গ্রামে লেদের আড়ালে অস্ত্র কারখানার হদিশ পায় পুলিস। বাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়। মুঙ্গের থেকে কর্মী এনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযানে পাইপগানও উদ্ধার করে পুলিস। এছাড়া প্রায়ই বেআইনি অস্ত্র সহ ধরা পড়ছে দুষ্কৃতীরা। পুলিস জানিয়েছে, বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।  পাথরশিল্পাঞ্চল বন্ধ (উপরে)। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিস (নীচে)। নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ