


লন্ডন: সোমবার সকালে দ্রুত ইংল্যান্ডের চার উইকেট দরকার ছিল ভারতের। আশা-নিরাশার দোলায় দুলছিলেন সমর্থকরা। তবে টিম ইন্ডিয়া ছিল আত্মবিশ্বাসী। টানটান উত্তেজনার মধ্যে সিরিজে সমতা ফেরানোর পর ক্যাপ্টেন শুভমান গিল বলেছেন, ‘হ্যাঁ, রীতিমতো বিশ্বাস ছিল নিজেদের উপরে। এমনকী, রবিবারও জানতাম যে ইংল্যান্ড চাপে পড়ে গিয়েছে। সেটা বজায় রাখাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। চাপের মুখে প্রত্যেকেই ভুল করে বসে। আমরা তাই এদিন আগাগোড়া বিপক্ষের উপর রাশ আলগা হতে দিইনি।’
ওভাল টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়েছেন মহম্মদ সিরাজ। তাঁর প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত গিল, ‘ওকে দলে পাওয়া যে কোনও ক্যাপ্টেনের স্বপ্ন। পাঁচ টেস্টের সিরিজে প্রত্যেকটা ডেলিভারিতে ও উজাড় করে দিয়েছে। প্রত্যেক স্পেলে সেরাটা মেলে ধরেছে। আমাদের সৌভাগ্য যে ওর মতো বোলারকে দলে পেয়েছি।’ পাশাপাশি, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণকে নিয়েও উচ্ছ্বসিত তিনি। গিলের কথায়, ‘সিরাজ ও প্রসিদ্ধ যা বল করেছে তাতে ক্যাপ্টেনের কাজটা সহজ হতে বাধ্য। ওরা কথা বলিয়েছে বলকে। হ্যাঁ, আমাদের উপরও কম চাপ ছিল না সকালে। তবে আমরা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছি দারুণভাবে।’
এই সিরিজে ৭৫৪ রান এসেছে তাঁর ব্যাটে। একজন ক্যাপ্টেনের কোনও টেস্ট সিরিজে এর চেয়ে বেশি রানের রেকর্ড একটাই। ১৯৩৬-৩৭ সালের অ্যাসেজে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে ডন ব্র্যাডম্যান করেন ৮১০। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা গিলের মন্তব্য, ‘সিরিজ শুরুর আগে প্রচুর পরিশ্রম করেছি টেকনিক ও মানসিক দিক নিয়ে। এই সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান হওয়াই লক্ষ্য ছিল। লক্ষ্যপূরণ করতে পারায় আমি তৃপ্ত।’
ওভালে চোটের জন্য খেলতে পারেননি বেন স্টোকস। এই সিরিজের ইংল্যান্ড অধিনায়কের গলায় শোনা গিয়েছে একহাতে ব্যাট করতে নামা লড়াকু ক্রিস ওকসের তারিফ। স্টোকস বলেছেন, ‘মাঠে নামার ব্যাপারে কোনও দ্বিধা ছিল না ওকসের। রবিবার তো সারাক্ষণ এটাই ভেবেছে যে ব্যাট করতে হলে কীভাবে খেলবে। বাঁ হাতি ব্যাটারের মতো দাঁড়াবে, নাকি ডানহাতির মতো! এই টেস্ট সিরিজে পায়ে চিড় নিয়ে, ভাঙা আঙুল নিয়ে, কাঁধের হাড় সরে যাওয়া নিয়ে খেলেছে ক্রিকেটাররা। দেশের হয়ে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার তাগিদই ফুটে উঠেছে।’