ফ্রান্স-৪ : নরওয়ে-১
ফ্রান্স-৪ : নরওয়ে-১
জয়ন্ত সেন: ফ্রান্স বনাম নরওয়ে! কিলিয়ান এমবাপে-আর্লিং হালান্ড দ্বৈরথের জন্য রীতিমতো মুখিয়ে ছিলাম। কিন্তু, রাত জাগাই সার। নরওয়ে তো পূর্ণশক্তির দলই নামাল না। প্রথম একাদশের ১০ জন পরিবর্তন! তাই বিনা বাধায় ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে গ্রুপ টপার ফ্রান্স। এই ম্যাচ থেকে প্রাপ্তি বলতে একমাত্র ওসুমানে ডেম্বেলে। ৩২ মিনিটের মধ্যে শুধু সে হ্যাটট্রিকই পূর্ণ করল না, অভিনব সেলিব্রেশনে বার্তা দিল— আমি এমবাপের ছায়ায় থাকার পাত্র নই।
সোশ্যাল মিডিয়া একটি ভিডিয়ো চোখে পড়েছিল। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফুটবলারদের উজ্জীবিত করতে ফ্রান্সের প্র্যাকটিসে গিয়েছিলেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ফটোশ্যুটের সময় দেখলাম, যাবতীয় মাতামাতি এমবাপেকে নিয়ে। প্রেসিডেন্ট তাঁর কাঁধে হাত রেখে ছবি তুলছেন। ডেম্বেলে তখন শুকনো মুখে পিছনের সারিতে দাঁড়িয়ে। দেখে খুব খারাপ লাগছিল। ডেম্বেলে হেলাফেলার পাত্র নয়। পিএসজি’কে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছে। নিজে ব্যালন ডি’ওর জিতেছে। এই কীর্তি তো এমবাপেরও নেই। তবুও জাতীয় দলে প্রচার পায় না ডেম্বেলে। তবে নরওয়ের বিরুদ্ধে ও প্রমাণ করল, ‘হাম কিসিসে কম নেহি!’ বিশ্বকাপের ইতিহাসে গত ৭২ বছরে দ্রুততম হ্যাটট্রিক। তিনটি গোলই অসাধারণ। সপ্তম মিনিটে এমবাপের বাড়ানো বল ধরে ডান দিক থেকে কাট করে ঢুকে লক্ষ্যভেদ। ২০ মিনিটেও এমবাপে পাস থেকে বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে জাল কাঁপায়। তৃতীয় গোলটাও একইভাবে এসেছে। তবে এমবাপে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। ভেবেছিলাম, নরওয়ের দ্বিতীয় সারির দলের বিরুদ্ধে গোলের বন্যা বইয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিড নেবে। কিন্তু সে সুযোগ হাতছাড়া করল। অবশ্য দুটো অ্যাসিস্ট করেছে। সংযোজিত সময়ে নরওয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতে ডুয়ে।
ফ্রান্স এবারও ট্রফি জেতার দাবিদার। তাদের নিয়ে নতুন করে আর কী বলব। কিন্তু, ‘ডার্ক হর্স’ নরওয়ের কাছে সুযোগ ছিল শক্তি প্রদর্শনের। ফ্রান্সকে হারাতে পারলে নক-আউটে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকত হালান্ডদের। কিন্তু ওডেগার্ড-হালান্ডদের নামালেন না কোচ। তাছাড়া ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছে লারসেন। নক-আউটের আগে ছন্দপতন ভোগাতে পারে ভাইকিংদের।