Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাতদিন কাটলেও সন্ধান মেলেনি মুণ্ডের, অভিযুক্তের খোঁজে কাশ্মীরে গোয়েন্দারা

সাতদিন কাটলেও সন্ধান মেলেনি মুণ্ডের, অভিযুক্তের খোঁজে কাশ্মীরে গোয়েন্দারা
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কললিস্ট থেকে ডিলিট করা হয়েছে নাম। কিন্তু গভীর রাত ও ভোরে একের পর সেভ না করা নম্বরে চ্যাট ও কল করেছিল সুফিয়া বিবি। হোয়াটসঅ্যাপ কলে কী কী কথা হয়েছিল, সেটাই জানার চেষ্টা করছে পুলিস। তাই দত্তপুকুরে নৃশংস খুনের কিনারা করতে ধৃত সুফিয়ার ফোন ফরেন্সিক তদন্তে পাঠিয়েছিল পুলিস। রিপোর্ট হাতে পেতেই সুফিয়ার ফোন থেকে বেশকিছু নম্বর পেয়েছেন তদন্তকারীরা। আর তা ভেরিফাই করে পলাতক স্বামীর খোঁজ পেতে জম্মু ও কাশ্মীরে রওনা দিয়েছে পুলিস। তবে, খুনের পর এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও নিহত যুবকের কাটা মুণ্ডর হদিশ পায়নি দত্তপুকুর থানার পুলিস। 
Advertisement
তদন্তকারীদের দাবি, খুন কাণ্ডের কিনারা করতে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হল সুফিয়ার ফোন। কেননা, খুনের আগে সুফিয়ার পলাতক স্বামীর সঙ্গে হজরত লস্করের কথা হয়েছিল। খুনের পরেও সুফিয়া ফোনেই কথা বলে স্বামীর সঙ্গে। কথা হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপ কলেই। কিন্তু গ্রেপ্তারের আগেই হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সমস্ত তথ্য ডিলিট করে দেয় সুফিয়া। তাই, হজরত খুনের পর পলাতক স্বামী সহ আর কতজনের সঙ্গে সে কথা বলেছিল, সেটা জানতেই সুফিয়ার ফোন ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠায় পুলিস। ধৃত সুফিয়ার স্বামী ফোন ব্যবহার করে না। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফলে, তার লোকেশন পেতে সমস্যায় পড়েছে তদন্তকারীরা। তাই, সুফিয়ার স্বামীকে গ্রেপ্তার করতেই পুলিস সুপারের নির্দেশে একটা টিম জম্মু ও কাশ্মীরে রওনা দিয়েছে। 
বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, সুফিয়ার স্বামী কুখ্যাত ক্রিমিনাল। হজরত খুনের ঘটনার মূল আসামি সে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সে কথা বলে। ফলে লোকেশন পেতে সমস্যা হচ্ছে। সুফিয়া ও তার স্বামী আগে জম্মু ও কাশ্মীরে কাজ করত। সেখানে পুলিসের টিম পাঠানো হয়েছে। হজরত খুনের সময় সুফিয়ার স্বামীর লোকেশন ক্রাইম স্পটের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু সুফিয়া ওর স্বামীকে সেফ রাখতে পুলিসি জেরায় বারবার বয়ান পরিবর্তন করছে। এদিকে, ধৃতদের জেরা করে ইতিমধ্যেই কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেই ভিত্তিতেই পলাতক অভিযুক্ত সহ কাটা মুণ্ডর খোঁজ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার গভীর রাতে দত্তপুকুরের বাজিতপুরে গ্রামে চাষের জমিতে মুণ্ডহীন হজরত লস্করের দেহ উদ্ধার করে পুলিস। আর, খুন কাণ্ডে দুই মহিলা সহ নিহত যুবকের মামাতো ভাই ওবাইদুল গাজিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তদন্তকারীদের মতে, ধৃত সুফিয়া বিবির দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীকে দিয়ে ফোন করিয়ে গাইঘাটা থেকে দত্তপুকুরে হজরতকে নিয়ে এসেছিল ওবাইদুল গাজি। খুনের আগে সুফিয়ার বাগানবাড়ি হয়ে উঠেছিল ‘সেফ হাউস।’ সেখানে হজরতকে রাখা হয়েছিল। রবিবার গভীর রাতে ওই সেফ হাউস থেকেই হজরতকে চাষের জমিতে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ