Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘মিশ্রাজি’র খোঁজে হন্যে তিন রাজ্য, ড্রাগ কন্ট্রোলের মাথাব্যথা জাল ওষুধ চক্রের কিংপিন

‘মিশ্রাজি’র খোঁজে হন্যে তিন রাজ্য, ড্রাগ কন্ট্রোলের মাথাব্যথা জাল ওষুধ চক্রের কিংপিন
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ১৭:০৩
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: প্রতিযোগীদের মাত দিতে ওষুধে ছাড় দিচ্ছেন বিস্তর। কিন্তু তারপরও তো রাখতে হবে মোটা অঙ্কের লাভ! একসঙ্গে দুটো সম্ভব কীভাবে? রাস্তা একটাই—জাল ওষুধ। কিন্তু কার মাধ্যমে? কে ঝুঁকি নিয়ে কনসাইনমেন্ট পৌঁছে দেবে মেহতা বিল্ডিং, বাগড়ি বা গান্ধী মার্কেটের আশপাশ পর্যন্ত? আমতার জাল ওষুধ কাণ্ডে জেরার মুখে জাল কারবারিদের এমনই এক ‘মুশকিল আসান’-এর নাম বলেছেন ধৃত বাবলু মান্না। ভেজাল কারবারিদের কাছে তিনি পরিচিত ‘মিশ্রাজি’ হিসেবে। পরিচিত এক ওড়িশার লিঙ্কম্যানের মাধ্যমে ‘মিশ্রাজি’র (তদন্তকারীদের অনুরোধে নাম অপ্রকাশিত) খোঁজ পান বাবলু। বাকি কাজ মিশ্রাজির সৌজন্যে নির্ঝঞ্ঝাট। 

Advertisement

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ‘মিশ্রাজি’র বাড়ি ওড়িশায়। প্রবল ধুরন্ধর। সব ঘুঁটি তার সাজানো। বাবলু মান্না কোনওদিন ধরা পড়লে নিজের বেরিয়ে আসার উপায়ও সাজিয়ে রেখেছিল সে। তাই ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকদের ধাঁধায় ফেলতে আর্থিক লেনদেন সবই করেছে বিহারের অ্যাকাউন্টে। ওড়িশা নয়। অন্যের নামে ভুয়ো নথিপত্র জমা দিয়ে গয়ার একটি বড় প্রাইভেট ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলে সে। ফলে দেদার লেনদেন সত্ত্বেও ‘আসল লোক’ পর্যন্ত পৌঁছনোর প্রমাণ পাওয়া যাবে না। 
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক কর্তা বলেন, বিহার ও ওড়িশা—দুই প্রতিবেশী রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলকে ‘মিশ্রাজি’র খোঁজে চিঠি দিয়েছি। আমরাও খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমাদের অনুমান, পূর্ব ভারতের ভেজাল ওষুধ ব্যবসার কিংপিন এই লোকটি। চিঠি পেয়ে ওড়িশা ড্রাগ কন্ট্রোল বাংলার ড্রাগ কন্ট্রোলকে জানিয়েছে, ২০২২ সালে আরও একটি ভেজাল ওষুধের ঘটনায় তাদের রাজ্যেই ধরা পড়েছিল এই ‘মিশ্রাজি’। সে এই কারবারে মেটেই নতুন নয়। পুরনো পাপী। ঝানু লোক।
গত বছর অক্টোবর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সে ভুয়ো কাগজপত্র দিয়ে গয়ার একটি বড় প্রাইভেট ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্টটি খোলে। জমা দেয় ২০ হাজার টাকা। পরদিনই ওই অ্যাকাউন্টে আমতা থেকে ৮ লক্ষ টাকা ঢোকে। কিন্তু নিমেষে সেই অর্থ ডেবিট হয়ে যায়। এরপর বাবলু ওই অ্যাকাউন্টে যতবার টাকা পাঠিয়েছে, ধাপে ধাপে সেই টাকা তোলা হয়েছে ওড়িশার বিভিন্ন জায়গার এটিএম থেকে। 
একদিকে ‘মিশ্রাজি’, অন্যদিকে কলকাতায় ঢোকা ভেজাল ওষুধের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে আগ্রা। কানের ইনফেকশন, ভার্টিগো ও ভারসাম্যের সমস্যার চিকিৎসা সংক্রান্ত অত্যন্ত জরুরি একটি ওষুধ জাল হয়েছে বলে খবর। সম্প্রতি ড্রাগ কন্ট্রোলে এমন অভিযোগ করেছে প্রস্তুতকারক সংস্থাও। তারই তদন্তে বাগড়ি মার্কেট, মেহতা বিল্ডিংয়ে হানা দিতে উঠে আসে আগ্রার নাম। সূত্রের খবর, আরও একাধিক ভেজাল ওষুধে আগ্রা কানেকশন মিলেছে। কারবারিদের সঙ্গে বারবার বাগড়ি, গান্ধী ও মেহতার বিল্ডিংয়ের কিছু পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে তদন্তকারীদের। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ড্রাগ কন্ট্রোলের পদস্থ এক কর্তা বলেন, ‘আমাদের নজর আছে আসানসোলের দিকেও।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ