Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

রাজস্ব আদায় আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে জিএসটি রেজিস্ট্রেশনে ঝাঁপাচ্ছে রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গে এখনও বহু সংস্থা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের জিএসটি রেজিস্ট্রেশন নেই। অথচ আইন অনুযায়ী তা থাকা উচিত ছিল।

রাজস্ব আদায় আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে  জিএসটি রেজিস্ট্রেশনে ঝাঁপাচ্ছে রাজ্য
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে এখনও বহু সংস্থা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের জিএসটি রেজিস্ট্রেশন নেই। অথচ আইন অনুযায়ী তা থাকা উচিত ছিল। সেই সংস্থাগুলিকে যাতে জিএসটির আওতায় আনা যায়, এবার সেই উদ্যোগ শুরু করছে রাজ্য সরকার। অর্থদপ্তরের দাবি, চলতি আর্থিক বছরে লাগাতার এই অভিযান চলবে। এ সংক্রান্ত সচেতনতা যেমন বাড়ানো হবে, তেমনই যে সংস্থাগুলি জিএসটি রেজিস্ট্রেশনে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতায় আটকে পড়েছে, তাদের সুযোগ করে দেওয়া হবে। জিএসটি বাবদ রাজ্যের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে দাবি কমার্শিয়াল ট্যাক্স বিভাগের কর্তাদের। প্রসঙ্গত, সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই বাংলায় জিএসটি আদায় বৃদ্ধির হার জাতীয় হারের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি হয়েছে। এতে সন্তুষ্ট না থেকে জিএসটি আদায় আরও বাড়িয়ে নিতে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। তাই করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। 

Advertisement

পণ্য উৎপাদক বা বিক্রয়কারী কোনও সংস্থার বার্ষিক ব্যবসার অঙ্ক যদি ৪০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি হয়, তাহলে সংস্থাটির জিএসটি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। পরিষেবা শিল্প বা ব্যবসার ক্ষেত্রে আর্থিক সীমা বার্ষিক ২০ লক্ষ টাকা। এছাড়া, বছরে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যবসা করা সংস্থা কম্পোজিশন স্কিমের আওতায় আসতে পারে। তবে করের বোঝা এড়াতে বহু সংস্থা এখনও জিএসটি রেজিস্ট্রেশন নেয়নি। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের হিসেব অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার সংস্থার জিএসটি সংক্রান্ত হিসেব রেখেছে। কম্পোজিশন স্কিমের আওতায় ছিল ৫৪ হাজার ৫০০ সংস্থা। গত অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে রাজ্যে নতুন করে জিএসটি রেজিস্ট্রেশন নেয় প্রায় ৪০ হাজার সংস্থা। পাশাপাশি, রেজিস্ট্রেশন বাতিলও করে বেশ কিছু সংস্থা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে রাজ্যে বাতিল হয়েছিল প্রায় ৪৪ হাজার সংস্থার রেজিস্ট্রেশন।
অর্থদপ্তরের কর্তারা বলছেন, যাঁদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়, তাঁদের একটা বড় অংশের কাছে জিএসটিতে নাম নথিভুক্তিকরণ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য থাকে না। রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোন কোন নথি প্রয়োজন, সেই সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণার দরুণ রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়। অনেকের কাছে সঠিক নথিও থাকে না। তাই ঠিক হয়েছে, যাঁরা আগে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু নানা কারণে তা গৃহীত হয়নি বা বাতিল হয়েছে, তাঁদের কাছে ফের পোঁছবে দপ্তর। সচেতনতা বাড়াতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির কাছেও আর্জি রাখা হবে। পাশাপাশি, যে সংস্থাগুলি করের ঝামেলা এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে জিএসটি রেজিষ্ট্রেশন নেয়নি, তাদেরও জিএসটির আওতাভুক্ত করার কাজে ঝাঁপাবে অর্থদপ্তর। এ ব্যাপারে দপ্তরের কাছে যে তথ্য বা ডেটাবেস আছে, তা কাজে লাগানো হবে। অর্থদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে ৪৬ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা জিএসটি বাবদ আদায় হয়েছে। এক বছরের নিরিখে বৃদ্ধির হার ১১.৪৩ শতাংশ। এই বছর জিএসটি আদায় বৃদ্ধির জাতীয় হার ৯.৪৪ শতাংশ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ