শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: মহিলাদের সার্বিক বিকাশে রাজ্য সরকার নিত্যনতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। জোর দেওয়া হয়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উপর। মহিলাদের স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে আর্থিকভাবে সাবলম্বী করা হচ্ছে। সেই মতো উত্তর ২৪ পরগনায় ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ১৫০০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন জেলার ৬৪ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা।
গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতি ও সার্বিকভাবে মানুষের পরিষেবা উন্নত করতে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘শিল্পের সমাধান’ নামে নতুন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। সেই মতো বিভিন্ন ব্লক এলাকায় বিশেষ ক্যাম্প হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ‘শিল্পের সমাধান’ ক্যাম্পে সাফল্য মিলেছে। তারপরও কাজে গতি আনতে ব্লকস্তরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে মহিলাদের যোগদান করানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে রয়েছে ৬৩ হাজার ১৫৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে বিক্রি করেন। এ রাজ্যের পাশাপাশি অন্য রাজ্যেও বিক্রি হচ্ছে তাঁদের তৈরি সামগ্রী। সেসব সামগ্রী ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদেরও নজর কেড়েছে। যেকারণে এই কর্মসূচির উপর জোর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের সরকারি নির্দেশ মেনে ঋণ দেওয়া হয়। গত অর্থবর্ষে জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ঋণ বাবদ মোট ১৫০০ কোটি টাকা নগদ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রতি মাসে ব্লক বা জেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা ব্যাঙ্ক পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি প্রতিটি গোষ্ঠীর মহিলাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে কাজের গতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে গত অর্থবর্ষে রাজ্যের পক্ষ থেকে যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল, তা অনেক আগেই পেরিয়ে গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। উল্লেখযোগ্যভাবে, জেলায় এমএসএমই ক্যাম্প অর্থাৎ ‘শিল্পের সমাধান’ ক্যাম্প থেকে দেওয়া হয়েছে ৩৫৭ কোটি ও ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প থেকে ১১০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরদকুমার দ্বিবেদী বলেন, অনেক আগেই রাজ্যের টার্গেট আমরা পেরিয়ে গিয়েছি। জেলায় মহিলাদের ১৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। পুরো রিপোর্ট হাতে এলে এই অঙ্ক আরও বাড়বে। তবে, নয়া অর্থবর্ষে এই অঙ্ক আরও বাড়বে বলেই আমরা মনে করি। তিনি আরও বলেন, আমরা মহিলাদের দিয়ে জ্যাম, জ্যালি, ভেষজ সাবান থেকে শাড়ি প্রিন্ট পর্যন্ত করাই। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী এ প্রসঙ্গে বলেন, মহিলাদের স্বনির্ভর করতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। তাই মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত বিভিন্ন প্রকল্প আজ বিশ্বের দরবারে সমাদৃত। এ নিয়ে বারাসতের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য রুম্পা আদক বলেন, জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় আমরা টাকা পেয়েছি। ফলে আমাদের কাজে গতি বেড়েছে। বাইরের রাজ্যে গিয়ে আমরা উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করে ভালো টাকা লাভ করেছি।