নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জলঙ্গি ও ইছামতী নদী কেন্দ্রিক মাস্টার প্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। এই দুই নদী সংলগ্ন এলাকার সেচ পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ চালুর সঙ্গেই চলবে এটা। জলঙ্গি ও ইছামতী মাস্টার প্ল্যান তৈরির জন্য আগামী সপ্তাহে জার্মান বিশেষজ্ঞ সংস্থা জেআইজেডের সঙ্গে মউ সই করতে চলেছে রাজ্য সেচদপ্তর।
বৃহস্পতিবার সল্টলেকে জলসম্পদ ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানান, মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত ‘নদীবন্ধন’ প্রকল্পের টাকায় এই নদীগুলিতে ড্রেজিং করা হবে। ওইসঙ্গে চলবে আশপাশের এলাকার সামগ্রিক সেচ পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ।
এছাড়া খাল সংস্কারের কাজে যুক্ত কর্মীদের সেফটি সুট বা নোংরা জলে নেমে কাজ করার সময় পরার পোশাক থেকে জুতো প্রভৃতি দেওয়ার ব্যাপারেও বড়ো পদক্ষেপ করতে চলেছে সেচদপ্তর। এই বিষয়ে সেচসচিব কৃষ্ণ গুপ্ত জানান, এটা একটি মানবিক পদক্ষেপ। এই কর্মীরা খালের জলে নেমে কাজ করেন। কাজটা অস্বাস্থ্যকর। সেখানে সাপখোপও থাকে। ওইসঙ্গে থাকে নানাবিধ আবর্জনা। এবার থেকে যে ঠিকাদার সংস্থা খাল সংস্কারের দায়িত্ব পাবে, তাদেরকে এই কর্মীদের অত্যাধুনিক পোশাক সরবারহ করতে হবে। এই শর্তের বিষয়টির উল্লেখ থাকবে দরপত্রেই।
বিষয়টির বাস্তবায়নে সেচদপ্তরের তরফে পুর ও পঞ্চায়েত দপ্তর এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে একটি কমিটিও গড়া হবে। প্রতিবছর রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,৩০০ কিমি খাল সংস্কারের কাজ করা হয়। ফলে প্রয়োজন পড়ে কয়েক হাজার কর্মীর। তাঁদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের চার জেলায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। নদীর তলায় পলিসঞ্চয়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি এলাকায় খনন কাজ থেকেই এই বিপত্তি। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বর্ষার আগে বনবহির্ভূত এলাকায় ১১৪.৭৬ কিমি এবং বর্ষার পরে ২৪.৩৫ কিমি নদীপথে ‘নো কস্ট’ ফর্মুলায় ড্রেজিং করা হবে। পাশাপাশি বনদপ্তরের মাধ্যমে ৭৮.৩০ কিমি নদীপথে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথে ১৩৬ কিমি এলাকায় নেওয়া হয়েছে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ৬৩ কিমি এলাকায় গাছ লাগানো হবে। আবার ২০২৬ সালের বর্ষার আগে রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য ইতিমধ্যে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া শহর এলাকার ১,৩৯৪ কিমি ড্রেনেজ খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।