নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গঙ্গাভাঙন কবলিত বলাগড়ের চর নোয়াপাড়াতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজে নামছে রাজ্য সরকার। গত দু’বছর ধরে ভাঙনের আতঙ্ক ঘিরে রেখেছে ওই বসতিকে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজের জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ করেছে। সোমরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই চর এলাকার ভাঙন রোধের কাজের জন্য ৫ কোটি ৪৭ টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের ওই উদ্যোগ ঘিরে চরের বাসিন্দা মহল স্বস্তির শ্বাস ফেলেছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাও উচ্ছ্বসিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু বসতি নয়, ভাঙনের জেরে এলাকার সাড়ে পাঁচশ কোটির জলপ্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল।
হুগলি জেলা পরিষদের বর্তমান বন কর্মাধ্যক্ষ তথা বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক অসীম মাঝি বলেন, গঙ্গাভাঙন রোধের কাজ কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব হলেও তারা কোনও পদক্ষেপ করছে না। রাজ্য সরকারই মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জীবন, জীবিকা, বসতি বাঁচাতে পদক্ষেপ করছে। আমরা রাজ্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ যে, দফায় দফায় সরকার বলাগড়ের ভাঙন প্রতিরোধে টাকা দিয়েছে। এর আগে গুপ্তিপাড়ায় ভাঙন প্রতিরোধ হয়েছে। এবার চর নোয়াপাড়ার ভাঙন রুখতে সরকার টাকা বরাদ্দ করেছে। অসীমবাবু জানিয়েছেন, দ্রুত ওই কাজ শুরু করা হবে। এই সময়ে গঙ্গার জলস্তর কিছুটা কম আছে। ফলে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ আছে।
হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায়, সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, রাজ্য সরকার বরাবর জেলার ভাঙন কবলিত এলাকা নিয়ে সদর্থক ভূমিকা পালন করেছে। বলাগড়ের গঙ্গার পাশাপাশি কুন্তী নদীর ভাঙন প্রতিরোধ নিয়েও সরকার পদক্ষেপ করেছে। আমাদের হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নির্দেশে বলাগড়ের ভাঙন নিয়ে সংসদে সরব হয়েছিলেন। বলাগড়ের ভাঙন কবলিত এলাকাগুলি নিয়ে জেলা পরিষদও উদ্বিগ্ন। স্থানীয়স্তরে যতটুকু পদক্ষেপ করা যায়, পঞ্চায়েতকে সঙ্গে নিয়ে সে সব আমরা করব। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বলাগড়ের মূলত চারটি এলাকায় বড় আকারের ভাঙন হচ্ছে। তার মধ্যে আছে গুপ্তিপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত, মিলনগড়, চর নোয়াপাড়া ও জিরাটের চর খয়রামারি এলাকা। ২০২৩ সালে চর নোয়াপাড়াতে রাজ্য সরকার জলপ্রকল্পের কাজ শুরু করে। গঙ্গা থেকে জল তুলে তা পরিস্রুত করে সরবরাহ করার ওই প্রকল্পের কাজের সময়েই কিছুটা ভাঙন রোধের কাজ হয়েছিল। ওই প্রকল্প থেকে গোটা বলাগড় ও পাণ্ডুয়া ব্লকের সমস্ত এলাকায় জল সরবরাহ করা হবে। প্রায় ৫২৯ কোটি টাকার ওই প্রকল্প ঘিরেই সম্প্রতি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। কারণ, প্রকল্পের ডান দিক থেকে সবুজদ্বীপ হয়ে জলপথে কলকাতার দিকে গঙ্গাভাঙন শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি দল ভাঙন পরিস্থিতি দেখতেও এসেছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। এবার বসতি সহ জলপ্রকল্পের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ময়দানে নামছে। - নিজস্ব চিত্র