নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলা এবং তাঁদের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্প রয়েছে। তার আওতায় পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের আর্থিক বিকাশের তথ্য উঠে এল রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের বাজেটে। উল্লেখ করা হয়েছে, ৩২ লক্ষ ৯৭ হাজার বা প্রায় ৩৩ লক্ষ লাখপতি দিদি শনাক্ত করা হয়েছে। সংখ্যাটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ক্ষেত্রে ১৭ লক্ষ ৮২ হাজার। আরও জানানো হয়েছে, ২০ লক্ষ নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদেরও লাখপতি দিদি হিসাবে উন্নীত করা হবে। প্রসঙ্গত, বিভাগীয় মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দপ্তরের পেশ করা বাজেট নিয়ে আজ, সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা হবে।
গত শুক্রবার থেকে বিধানসভায় দপ্তরওয়ারি বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। সেই পর্বেই আজ বিধানসভায় পঞ্চায়েত দপ্তরের বাজেট পেশ করবেন মন্ত্রী। তারপর এই বাজেটের উপর আলোচনা হবে। এবার পঞ্চায়েত দপ্তরের জন্য বাজেট ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৮২৫ কোটি ৫৮ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা। গ্রামীণ উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান দিয়েছে দপ্তর।
অন্যদিকে, আজ মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের পরিবহণ দপ্তরের বাজেট নিয়েও আলোচনা হবে। এবছর ৩ হাজার ৪ কোটি ৭২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। স্বচ্ছ, আধুনিক ও উন্নত পরিবহণ পরিষেবা প্রদানে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বন্ধ বিভিন্ন বাস রুট পুনরায় চালু করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে সমস্ত বাস ডিপোয় পরিস্রুত পানীয় জল এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হবে। দপ্তরের আরও প্রস্তাব—এম জি রোড হয়ে পর্ণশ্রী থেকে শিয়ালদহ এবং শকুন্তলা পার্ক থেকে হাওড়া রেল স্টেশন (ভায়া এসপ্ল্যানেড) পর্যন্ত বাস পরিষেবা চালু করা। ১৫টি শহরে রাজ্য সরকার ‘পিএম ই-বাস সেবা’ বাস্তবায়নের প্রস্তাব রেখেছে। জঙ্গলমহল ও পাহাড়ি এলাকাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বাস টার্মিনাস, চেকপোস্ট এবং পার্কিং কমপ্লেক্স প্রভৃতি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হাতে নেবে রাজ্য। সমস্ত জেটি ও ফেরিঘাটেও পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা চালু করতে চায় রাজ্য সরকার। কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন ফেরি পরিষেবাকে নিয়মিত করার উপর গুরুত্ব দিয়েছে এই বাজেট। মোটরযান পরিদর্শক ও অন্যান্য মোটরযান কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা বা সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হবে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যদপ্তরের বাজেট নিয়েও আজ আলোচনার কথা রয়েছে। তবে বাজেট বইটি শুক্রবার পর্যন্ত বিধায়কদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।